ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজট

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৭ ১৭:৫৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজট

     

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যবাহী একটি ট্রাক রাস্তার মাঝে বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শুরু হয়ে সোনারগাঁ হয়ে দাউদকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজট বুধবার বিকেল পর্যন্তও কাটেনি। যানজটের কারণে সব ধরনের যানবাহন থেমে রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামগামী লেনে আটকা পড়েছে কয়েক লাখ যাত্রী। শুধু দূরপাল্লার গাড়ি নয়, কাছাকাছি গন্তব্যের গাড়িগুলোও যানজটে পড়ে থমকে রয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ভিআইপি গাড়িকে পুলিশ প্রহরায় উল্টো পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় মঙ্গলবার রাতে পণ্যবাহী একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গোমতি সেতুর পূর্বপাশে দুটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়লে যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলেও যানজট কমেনি।

এছাড়াও দুটি সেতুতে ওজন মাপার মেশিনে ট্রাক ও লরিসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন ওজন মাপার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা, টোল আদায়ের ধীরগতি, বৃষ্টিতে যান চলাচলের ধীরগতির কারণে যানজট আরও দীর্ঘ হয়। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টোল প্লাজার অসাধু কর্মকর্তা কমচারীরা যেসব পণ্যবাহী ট্রাক বা লরি ওজনের স্কেলের আওতায় পড়ে না সে সকল পণ্যবাহী ট্রাকগুলো মহাসড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। ফলে মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে মহাসড়কের দাউদকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানজটে আটকা পড়ে যানবাহনগুলো থেকে আছে। যানবাহনগুলোর ইঞ্জিন বন্ধ করে অলসভাবে সময় কাটাচ্ছেন চালকরা। বাসের যাত্রীরা জানালা দিয়ে মুখ বের করে গাড়ি ছাড়ার অপেক্ষা করছেন। দাউদকান্দির গোমতি সেতু থেকে শুরু করে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কাভার্ডভ্যান চালক শহিদুল্লাহ বলেন, ওজন মাপার যন্ত্রের কারণে সড়কে চলতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। টোল প্লাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যেসব পরিবহন ওজনের আওতায় আসে না সেগুলোকেও অযথা সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখে। এতে এক লেনের সড়ক হওয়ায় পরিবহনে লাইন দীর্ঘ হয়ে যানজটে পরিণত হয়। এ যানজট গাড়ির চাপে দীর্ঘ হয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তিতে ফেলে।

কুষ্টিয়ার মহজমপুর থেকে ছেড়ে আসা গরুবাহী ট্রাকের চালক শাহ আলম বলেন, কুমিল্লায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রোববার ট্রাকে গরু লোড করে চলতে শুরু করি। শুধু এ সড়কই নয়। দেশের বিভিন্ন সড়কেই যানজটের দৃশ্য রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পুলিশ গরুর ট্রাক থামিয়ে টাকাও আদায় করছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৈবুর রহমান বলেন, মহাসড়কের দুটি টোল প্লাজায় টোল আদায়ের ধীরগতি এবং ওজন মাপায় দীর্ঘ লাইনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে অন্য গাড়িগুলো চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া মহাসড়কে ট্রাক বিকল হওয়া ও বাস দুর্ঘটনার কারণে যানজট তীব্র হতে থাকে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন...