ভোটার হলেও ভোটাধিকার পাচ্ছেন না প্রবাসীরা

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১ �?প�?রিল ২০১৮ ১৪:২৫

ভোটার হলেও ভোটাধিকার পাচ্ছেন না প্রবাসীরা

ইসিভোটার হলেও ভোটাধিকার পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের স্ব স্ব কর্মস্থলেই ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে প্রবাসী অধ্যুষিত রাষ্ট্রের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে ইসিতে।
 
তবে ভোটার হলেও এসব প্রবাসী আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের ভোটার করায় সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ভোটাধিকার নয়, আপাতত তাদের ভোটার করাই ইসির প্রধান লক্ষ্য। এদিকে প্রবাসী বাঙালিদের ভোটার করার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কয়েক দফা সময় নির্ধারণ এবং আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েও যথাসময়ে সেমিনারের আয়োজন করতে পারেনি ইসি। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং পরে মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ আয়োজনের কথা ছিল।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ায় এবং তাদেরকে একত্রিত করে সম্মেলনটি করতেই সময় পেছানো হয়েছে। সেমিনারের আগামী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল। এই আয়োজনের আপ্যায়নে কমিশনের ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
 
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারাবিশ্বের বাঙালি অধ্যুষিত ১৫৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে জনবহুল তিনটি দেশ অর্থাৎ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেখানকার বাংলাদেশি দূতাবাসের সহায়তা নিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম ওঠানোর কথা ছিল। পরে এখানে কাটছাঁট করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রস্তাবে শুধুমাত্র সৌদি আরবকেই অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এ দেশে ৪টি টেকনিক্যাল টিম পাঠিয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলেই ভোটার করা হবে। এ জন্য আগামী ২০১৭-১৮ সংশোধিত অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধাপে ধাপে কাতার, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলে কমিশনের টেকনিক্যাল টিম পাঠিয়ে সেখানে বসবাসরতদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
 
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর প্রস্তাব, অর্থমন্ত্রীর তাগিদ, গত বছরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুশাসন, সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব এবং গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আইডি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মতির পর প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়টি আগেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে কমিশন। এমনকি কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে সেটিও অনেকটাই চূড়ান্ত।
 
কিন্তু ভালো এই উদ্যোগটি কমিশন গ্রহণ করার পর যাতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অফিস, বোয়েসেল, রামরু, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, এনজিও প্রতিনিধি, প্রবাসে বর্তমানে কর্মরত প্রথম সচিব ও কনসাল জেনারেলসহ কোনো পক্ষই যাতে দায় এড়াতে না পারে মূলত সে কারণে ওই সেমিনারের আয়োজন করতে যাচ্ছে কমিশন। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সেমিনারে উপস্থিতি নিশ্চিতে সমন্বয় করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসি সচিব পত্র দিয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে এ বিষয়ে সমন্বয় করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
 
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে বহুসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও তারা দেশে আসার সুযোগ পান না। যার ফলে ভোটার তালিকায় তাদের নাম যেমন অন্তর্ভুক্ত হয় না, তেমনি তারা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বঞ্চিত। রাষ্ট্রের পরিচিতি পত্র না থাকায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এসব প্রবাসী বাঙালিদের ভোটার করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও উদ্যোগে ঘাটতি থাকায় তা আর সামনের দিকে এগোয়নি। বর্তমান খান মো. নুরুল হুদা কমিশন গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্বে এসে প্রবাসীদের ভোটার করার সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়।
 
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে দেশের উচ্চ আদালত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বিশ্বের ১৫৭টি দেশে কোটির উপরে প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। বর্তমান কমিশনের এই উদ্যোগে তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
 
 
 
 
 
 
 

আরও পড়ুন...