সহসাই কাটচ্ছে না বিএনপির সংকট

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ২১:৩৭

সহসাই কাটচ্ছে না বিএনপির সংকট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে বিএনপির। এক কথায় বলা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজার রায়ের মধ্য দিয়ে মূলত এ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়ায় দলটি। আর একাদশ নির্বাচনের আগে এ সংকট থেকে বিএনপি আদৌ বের হয়ে আসতে পারে কি না তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, সহসাই এ সংকট কাটচ্ছে না বিএনপি। যদিও দলটির ভাষ্য, আইনের মাধ্যমে না হলে রাজপথের আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। তবে দলের এই বক্তব্যে নিয়েও দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নীতিবাচক (বিএনপি শুধু মুখে বলতে পারে, কিন্তু কাজ করতে পারে না) কথাবার্তা চলছে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জানতে চাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, এটা সরকারের সমস্যা, বিএনপির নয়। কারণ সমস্যা বা সংকটগুলো তৈরি করেছে সরকার। তারা (সরকার) চাচ্ছে, বিএনপি যাতে স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের কাজ করতে না পারে। এই জন্য বেগম জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে এবং তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করছেন। কারণ সরকার জানে- বিএনপি, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজয় লাভ করতে পারে। তাই সরকার এই সংকট তৈরি করছে। 
সূত্রটি আরো জানায়, দলের প্রধানের কারামুক্তির দাবিতে বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-কর্মসূচি করছে। কিন্তু দাবি মানতে বাধ্য করার মতো আন্দোলন কর্মসূচির এখনও করতে পারেনি তারা। আদৌ পারবে কি না সেই বিষয়েও সংশয় রয়েছে, কিংবা সেই সক্ষমতা নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজার রায় ঘোষণার পরেই দলের উচিত ছিল রাজপথে কয়েক দফা কঠোর আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করা। এরপর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেতে পারতো। কারণ শুধু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। ইতিহাসেও সেটার নজীর নেই। কিন্তু বিএনপি সেটা করেনি। এর মাসুল হয়তো এখন গুনতে হচ্ছে। 

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার চাইছে বিএনপি সংঘাত করুক। এজন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সরকারের মদদে পুলিশ বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। তবে সরকার যতই উস্কানি দিক, বিএনপি তাতে কান দেবে না। সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে চলবে। 
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবং দলগোছাতে যখন ব্যস্ত বিএনপি ঠিক সেসময়ই ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যুটি আরেক সংকট হয়ে দলটির সামনে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা হিমশিমও খেতে হচ্ছে দলটিকে। 

গত শনিবার লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ২০১২ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিয়ে তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সারেন্ডার করেছে। সে কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়? যদিও বিএনপি বলছে, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। তিনি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। 

এবিষয়ে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাসুদ রেজোয়ান বলেন, পাসপোর্ট সমর্পণ করার সঙ্গে নাগরিকত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কারও পাসপোর্ট না থাকলে তার নাগরিকত্ব বাতিল হয় না। যদি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেন, তবে সেটা হবে ভিন্ন বিষয়। তিনি (তারেক রহমান) এ বিষয়ে কোনো আবেদন করেছেন কি না, তা আমাদের জানা নেই। 


জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন  বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। আর তারেক রহমান সব আইন মেনেই বৃটেনে অবস্থান করছেন। সুতরাং সরকার যে পাসপোর্ট নিয়ে কথা বলছে, সেটা অহেতুক ও উদ্দেশ্যমূলক। আর নাগরিক হতে হলে কি পাসপোর্ট লাগবে? এদেশের নাগরিকদের বোকা পেয়েছে বলে যা ইচ্ছে তাই বলছে সরকার।

 

আরও পড়ুন...