ঢেলে সাজানো হচ্ছে দুদক

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৮ ২৩:১০

ঢেলে সাজানো হচ্ছে দুদক

দুর্নীতি অনুসন্ধান, দমন, প্রতিরোধ ও তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সংস্থাটির ৩৬টি ক্যাটাগরিতে নতুন করে হাজারো পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা কার্যালয়ের জনবল। সৃষ্টি করা হচ্ছে সংস্থাটির বেশ কিছু নতুন বিভাগও। একই সঙ্গে সংস্থাটির পুরাতন বিভাগগুলো ভেঙ্গে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। উল্লিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় হবে ২১ কোটি ৫৮ লাখ ঊনিশ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুদক পুনর্গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব গত ২৯ জানুয়ারি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে জনপ্রশাসন ও অর্থমন্ত্রণালয় থেকে উল্লিখিত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সর্বশেষ গত তিন জুলাই অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিও বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়েছে কিনা এই মুহুর্তে বলতে পারবো না। তবে সচিব কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়েছে এবং তা শিগগিরই কার্যকর হবে। 
 
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়, সাবেক দুর্নীতি দমন ব্যুরোর জেলা ভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার করে কয়েকটি জেলার সমন্বয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় গঠন করে কমিশন বর্তমান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুদক আইন ২০০৪ এর ১৭ ধারার বিপরীতে কমিশনের জন্য নির্ধারিত কার্যপরিধিতে সংগঠিত অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা, দায়েরকৃত মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচলিত আইনের আওতায় বিরাজমান অসঙ্গতি চিহিৃতকরণ, দুর্নীতির আর্থসামাজিক কারণ চিহিৃতকরনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সীমিত সংখ্যক জনবল, প্রশিক্ষণের অভাব, দক্ষ জনবল,কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবলের অভাব এবং যাবাহনসহ যাবতীয় সংকটের কারণে সংস্থার কাছ থেকে জনসাধারণ যে ধরণের ভূমিকা প্রত্যাশা করে তা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে সংস্থার জনবলসহ যাবতীয় সীমবদ্ধতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।
 
অনুমোদন পাওয়া এখন থেকে প্রধান কার্যালয়ের মতই গুরুত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে অভিযোগের ওপর গণশুনানি গ্রহণ এবং সমাধান দেয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে বর্তমানে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ৬৪টি জেলাসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুইটি সাংগঠনিক জেলা কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা হবেন জেলা কার্যালয়ের প্রধান। এ জন্য নতুন করে ৩১০ টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশাসনিক বিভাগেও একটি করে কার্যালয় চালু করা হচ্ছে। আগে ৬টি বিভাগে বিভাগীয় কার্যালয় ছিলো। বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা হলেও তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপালনের জন্য কোন কর্মকর্তার পদ রাখা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নীতর লক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে ৮টি উপ পরিচালক, ৮টি সহকারী পরিচালক, এবং ৮টি উপসহকারি পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 
 
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবে আরো বলা হয়, দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই ক্ষেত্রে নতুন করে বিশারদ শাখা নামে একটি শাখা খোলা হবে। এই শাখার কাজ হবে অভিযোগ ও মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দলিলাদিতে জাল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নিরূপণ, কাগজপত্র দলিলাদি, ব্যাংকে ব্যবহৃত চেকসহ অন্যান্য প্রমাণকের হস্তাক্ষর ও অঙ্গুলাঙ্ক পরীক্ষা নিরিক্ষা এবং বিশেষজ্ঞের মতামতের জন্য কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিশারদ সৃষ্টি করা। কারণ মাঠ পর্যায়ে সংঘটিত দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তে সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রায় বিশেষজ্ঞের মতামত দরকার হয়। বিশেষজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকায় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম সমন্বয়হীনতায় পড়ে। এতে মামলা অনুসন্ধান ও তদন্ত বিলম্ব ঘটে এবং জনসাধারণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। স্পর্শকাতর ও গোপনীয়তা বজায়ে রাখা প্রয়োজন বিধায় কমিশনের চেয়ারম্যানের সরাসরি তত্বাবধানাধীন পর্যবেক্ষণ ও বিশারদ শাখা সংযুক্ত করা হবে। বিশারদ শাখায় ১টি পরিচালকের, ২টি উপ পরিচালকের, ৪ টি সহকারী পরিচালকের, ২ টি উপসহকারি পরিচালকসহ ২০টি পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 
 
 
 
এছাড়া দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে কেউ অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে অব্যাহতি কিংবা অপসারণের শাস্তি আরোপ করা হলে ওই দায়িত্বপালনের প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট তৈরি হয়। এসব কারণে সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামোতে রিজার্ভ শাখা খোলা হচ্ছে। কমিশন সচিবের তত্বাবধানে রিজার্ভ শাখায় পনেরোটি উপপরিচালক, চৌদ্দটি সহকারী পরিচালক সাতাশটি উপসহকারি পরিচালক, ৯টি কোর্ট সহকারিসহ ৮৩ টি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হচ্ছে।
 
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট নামে একটি ইউনিট খোলা হচ্ছে। কমিশন সচিবের দপ্তরে ১ জন পরিচালক, ২ জন উপপরিচালক, ৪ জন সহকারী পরিচালকসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তা কর্মচারী এই ইউনিটে কাজ করবে। 
 
এনফোর্সমেন্ট ইউনিট নামে একটি ইউনিট খোলা হচ্ছে। দুদকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দিনে অথবা রাতে সবসময় আসামি গ্রেফতারের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায়ে রাখার লক্ষে এই ইউনিট কাজ করবে। কমিশন সচিবের অধীনে একজন উপপরিচালক, দুইজন সহকারী পরিচালক, চারজন উপসহকারি পরিচালক, চারজন কোর্ট পরিদর্শক, চারজন কোর্টসহকারিসহ ২৬ জনবল এই ইউনিটে কাজ করবে। 
 
 কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট চালু করা হচ্ছে। এই ইউনিটে সচিবের দফতরে একজন পরিচালক, তিনজন উপপরিচালক, দুইজন সহকারী পরিচালকসহ ১০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী এই ইউনিটে কাজ করবেন।
 
 
 
 
 
 

আরও পড়ুন...