স্ত্রী ও মেয়েকে খুনে করে নিজের ফাঁসি চাইলেন অভিযুক্ত

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০১৮ ১০:২০

স্ত্রী ও মেয়েকে খুনে করে নিজের ফাঁসি চাইলেন অভিযুক্ত

স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে নিজের ফাঁসি চাইলেন অভিযুক্ত শেখর দেবনাথ (৪৫)৷ পুলিশকে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাজারে প্রায় ১১-১২ লাখ টাকা ঋণ ছিল তাঁর৷ বাড়ি বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু, বাড়ি বিক্রিতে আপত্তি ছিল স্ত্রী ও মেয়ের৷ মানসিক চাপে তাঁদের খুন করে ফেলেছেন তিনি৷

উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার মছলন্দপুরের বাসিন্দা শেখর দেবনাথ৷ স্ত্রী গৃহবধূ৷ একমাত্র মেয়ে পূজা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী৷ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত শনিবারও মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল পূজা৷ কিন্তু, সোমবার তাঁকে পরীক্ষা দিতে যেতে দেখেননি তাঁরা৷ সারাদিন ঘর থেকে বের হননি শেখর বাবুর স্ত্রীও৷ তখন প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়৷

তাঁদের দাবি, স্ত্রী ও মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করতে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন শেখর৷ তারপর ঘরের ভেতর ঢুকে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন তিনি৷ শেখরকে বাঁচাতে প্রতিবেশীরা যখন তাঁর ঘরে ঢোকেন, তখন দুর্গন্ধ পান তাঁরা৷ খাটের নিচে উঁকি দিতে দেখা যায়, শেখর দেবনাথের স্ত্রী ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে৷ দুটি মরদেহই প্লাস্টিকে মোড়া ছিল৷ খবর পেয়ে পুলিশ মা ও মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার৷ শেখরকে প্রথমে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়েছিল৷ পরে তাঁকে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্কি করা হয়৷

হাসপাতালের বেডে শুয়েই স্ত্রী ও মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করে শেখর দেবনাথ৷ আর এখন চাইছেন, তাঁর ফাঁসি হোক৷ পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত জানিয়েছেন, তিনি ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ হয়েছিলেন৷ বাড়ি বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে চেয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু, বাড়ি বিক্রিতে একেবারেই সায় ছিল না স্ত্রী ও মেয়ের৷ তাই মানসিক চাপে দু’জনকেই খুন করেছেন তিনি৷ শেখর দেবনাথের দাবি, স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন৷

কিন্তু, প্রতিবেশীদের কারণে বেঁচে যান৷ শেখর দেবনাথের প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, বাড়িতে একটা ছোট কারখানা চালাতেন তিনি৷ চিটফাণ্ডে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছিলেন শেখর৷ অর্থাভাবে বছর দেড়েক আগে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়৷ তারপর থেকে সবসময়ই মনমরা হয়ে থাকতেন শেখর দেবনাথ৷

আরও পড়ুন...