বন্ধন জোরদারে গুরত্বারোপ হাসিনা-মোদির

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:৪৮

বন্ধন জোরদারে গুরত্বারোপ হাসিনা-মোদির

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা-কলকাতা রেলপথে বন্ধন এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্ধন আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতু ও তিতাস সেতু উদ্বোধন করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধন শুধু রেলের বন্ধন না। আমাদের এই বন্ধন যেন দুই দেশের জনগণের মাঝে বন্ধন সৃষ্টি করে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেটাই আমাদের কাম্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুব আনন্দিত। সকলের সঙ্গে মিলে আমরা যে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করলাম, তাতে আমাদের দুই দেশের জনগণ লাভবান হবে। দুই দেশের মানুষের দীর্ঘ দিনের একটা স্বপ্ন পূরণ হলো। কলকাতার চিতপুরে নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালসহ যেসব উদ্যোগ ঢাকা-কলকাতা এবং খুলনা-কলকাতার মধ্যে আরামদায়ক ভ্রমণে সহায়ক হবে। বিশেষ করে যাত্রীরা খুবই সুবিধা পাবে। আমি মৈত্রী এক্সপ্রেস ও অন্যান্য এক্সপ্রেসের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মাঝে অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, যেটা একান্তভাবে অপরিহার্য। রেলওয়ে খাতে আমাদের দুই দেশের মাঝে চমৎকার সহযোগিতা বিদ্যমান। ২০০৯ সাল থেকে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশ এবং ভারতের মাঝে ১৯৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত যে সমস্ত লাইনগুলো চালু ছিল, যা ১৯৬৫ সালের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো পুনরায় চালু করা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু রেল লাইন চালু হয়েছে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। আমি এটা বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্পর্কটা অত্যন্ত চমৎকার। এই সম্পর্ক শুধু রেল, সড়ক, নদী, আকাশ পথে সংযুক্ত নয়। আমরা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, উপকূলীয় নৌপথ, বিদ্যুৎ গ্রিড ইত্যাদির মাধ্যমেও আজকে আমরা সংযুক্ত। আমাদের সংযুক্ত হওয়ার এ সব নতুন নতুন পথ সার্বিকভাবে সংযোগের কাঠামোতে বিচিত্র মাত্রা যোগ করেছে। এখানে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, সম্প্রতি আমাদের এই যোগাযোগ মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দ্বি-পাক্ষিক মাত্রা ছাড়িয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আমি নিশ্চিত আমাদের দুই দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য আগামীতে এ ধরণের আরও অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ নিয়ে সবসময় অপেক্ষায় থাকবো।'

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তৃতার প্রথমেই অভিনন্দন জানিয়ে বাংলায় বলেন, আজ আমাদের মৈত্রীর বন্ধন আরও সুদৃঢ় হল। এরপর আবার হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যের জন্য নিজের ও ভারতবাসীর পক্ষ থেকে শুভকামনা জানান নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমি মনে করি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিবেশীর মতোই সম্পর্ক থাকা উচিত। মন চাইলেই কথা বলা উচিত, দেখা-সাক্ষাৎ করা উচিত। প্রটোকলের বাধা থাকা উচিত না।...আজ এই ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটি কানেকটিভিটির উদ্বোধন করছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ থেকে মানুষে কানেকটিভিটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কানেকটিভিটি বাড়ছে।... বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত সহযোগী হতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা সম্পর্ক জোরদারের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের নতুন আকাশ ছুঁতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

আরও পড়ুন...