স্থিতিশীল সবজির বাজার

আমাদের প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৮ ১৪:৫৫

স্থিতিশীল সবজির বাজার

সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিক থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কেননা বাজারে ওই সময়টাতেই শীতের সবজি আসা শুরু হয়েছিলো। এছাড়া অক্টোবরের শেষের দিকে পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাবে দাম বেড়েছিলো ব্যাপক হারে। চলতি মাসের শুরুতে আবারো দাম কমে বাজার সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে এসেছে। এজন্য মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর-১, ১০, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বউবাজার, কাওরানবাজার এলাকা ঘুরে নিশ্চিত হওয়া গেছে এসব তথ্য।

আজ প্রতিকেজি টমেটো ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। প্রতিকেজি শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।
 
এসব বাজারে প্রতিকেজি গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০, মুলা ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেজে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

প্রতি পিস বাধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, হালকা দাম ওঠানামা আছে শাকের বাজারে। প্রতি আটি কলমি শাক, লাল শাক গত সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ টাকায় থাকলেও এ সপ্তাহে দাম আটি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। গেল সপ্তাহে লাউ শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, পালং শাক ১৫ টাকায়, পুঁই শাক ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ সপ্তাহে এসব শাকের দাম কমেছে ৫ টাকা হারে।

বাজারে শাক-সবজির ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানায়, দাম যা বাড়ার তা মাসখানেক আগেই বেড়েছে। যখন শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছিলো। বর্তমানে বাজারে শাক-সবজির চালান অনেক বেশি পরিমাণ রয়েছে। বরং দিন শেষে বিক্রেতাদের অনেক সবজি বিক্রি না হয়ে নষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, শাক-সবজির চালান আসতে গরম ও বর্ষাকালে অনেক নষ্ট হয়। এখন তা হচ্ছে না। আবার শীতের সবজি বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশিই থাকে।

আবার গত মাসে তিনদিনের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দাম বেড়েছিলো ব্যাপক হারে। ধর্মঘট শেষে সে উচ্চ দাম পড়ে গেলেও শীতের সবজি আসা শুরুতে যে দাম বেড়েছিলো তা কমেনি। কিন্তু এটাকে মেনে নিয়েই ক্রেতাদের স্বস্তিতে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে প্রতিকেজি সিরাজ মিনিকেট ও মিনিকেট চাল ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি মসুর ডাল (দেশি) ১০০ টাকায়, মসুর ডাল মোটা ৭০ টাকায়, মুগ ডাল ১২০ টাকায়, ভোজ্যতেল প্রতিলিটার খোলা ৯০ টাকায় ও বোতলজাত ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার মধ্যে প্রতিকেজি আদা ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়, রসুন ভারতীয় প্রতিপাল্লা (পাঁচ কেজি) ২৮০ টাকায় ও দেশি রসুন ২৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। পেঁয়াজ (দেশি) ৪০ টাকা, ভারতীয় ৩০ টাকা, আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কেজিতে ১০ টাকা দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগিতে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। অপরিবর্তিত থেকে লেয়ার মুরগি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ মাছ ধরার নির্দিষ্ট মৌসুম থাকায় বাজারে ইলিশের যোগান ভালো। তাই দামটাও কিছুটা নাগালের মধ্যে। তবে আরও কম দাম আশা করছেন ক্রেতারা। বাজারে প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১০০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিজোড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দাম গত সপ্তাহে কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা হারে বেড়েছে। বাজারে মাছের আকারভেদে প্রতিকেজি ট্যাংরা মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কৈ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ২৭০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন...