লাল কার্ড দেখানোর মতো ফাউল করেছেন ড. কামাল

news-details
রাজনীতি

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

লাল কার্ড দেখানোর মত ফাউল করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাউলকারি জিনেদিন জিদান ও মাতারাজ্জির মতো ফাউল করছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ।

জা‌হাঙ্গীর ক‌বির নানক অভিযোগ করে বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কালো টাকার প্রভাব, সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংসরূপ ততই উন্মোচিত হচ্ছে।  এ ছাড়া নীতি ও সততার মুখোশ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে তাদের বীভৎস চেহারা। 

সংবাদ সম্মেলনে তি‌নি ব‌লেন, গতকাল (সোমবার) রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) ছবি সম্বলিত বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার তার সঙ্গে ঢাকার একটি আসনে সব ভোটারের নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি তালিকাসহ হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। র‌্যাব এর জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এর আগেও দেশের বিভিন্নস্থানে বিএনপি-জামাত ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে যেসব অর্থ দুর্নীতিবাজ দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান এর মাধ্যমে দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তি‌নি আরও বলেন, যার পেছনে রয়েছে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র, নির্বাচন বিরোধী চক্রান্ত এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর অপতৎপরতা নির্বাচন প্রভাবিত প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেই এই টাকা পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

ঐক্যফ্রন্ট গতকাল (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনে গিয়ে যে অনভিপ্রেত ও আচরণ করেছেন তা কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা করে না মন্তব্য করে তি‌নি ব‌লেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের নিয়ে উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই তারা খেলাতে মাঠে না নেমে প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড় রেফারি বিরুদ্ধে এক ধরনের অভিযোগ করতে শুরু করেছিল। তফসিল ঘোষণার পর একের পর এক ফাউল করে যাচ্ছে কিন্তু রেফারি কিছু বলতে গেলে তারা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছেন।

ড. কামাল হোসেন প্রস‌ঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক ব‌লেন, গতকাল নির্বাচন কমিশন গিয়ে কিভাবে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে রীতিমতো এক ধরনের মাস্তানি করেছেন এমনকি আমাদের দেশের পেশাদার পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে অত্যন্ত অসম্মানজনক শব্দ উচ্চারণ করে মন্তব্য করেছেন যা আমাদের মুখেও আসতে চায় না। তারা আমাদের গৌরব ও মর্যাদার সেনাবাহিনীর সর্ম্পকে পরিকল্পিত মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন।

নানক বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল দলকে গণতান্ত্রিক আইনসিদ্ধ আচরণ করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে একদিকে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও ব্যাপক মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে অবৈধ টাকা ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করে নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে। নিজেদের দলীয় কোন্দল থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনাকে পুঁজি করে উল্টো আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করছে এবং সরকার প্রশাসন ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আওয়ামী লী‌গের এই নেতা বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ফাঁস হওয়া ফোন আলাপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তারা তাদের কর্মীদের কিভাবে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির নির্দেশনা দিচ্ছেন। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছি।

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাই আপনারা সুস্থ স্বাভাবিক রাজনীতিতে ধারায় ফিরে আসুন। আসুন আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও কল্যাণকর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই।

নানক মন্তব্য করে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ফাউল হলো বিশ্বকাপ ফুটবলের জিনেদিন জিদান ও মাতারাজ্জির ঘটনার মত। কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে নানারকম উস্কানি দিলেও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন এবং কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। কামাল হোসেনরা লাল কার্ড পাওয়ার মতো একাধিক ফাউল করলেও নির্বাচন কমিশন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অত্যন্ত নমনীয় ভূমিকা পালন করছেন।

নির্বাচনের আর মাত্র ৩দিন বাকি মন্তব্য ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, সারা বাংলাদেশে গ্রাম শহর ধনী-গরীব, ছাত্র-যুবক, কৃষক-শ্রমিক, নারী-পুরুষ, নির্বিশেষে সকল নাগরিক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘নৌকা’ মার্কার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীদের ‘নৌকা’ মার্কার ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আবার জনগণের সেবা করার সুযোগ প্রদান করবেন।

সংবাদ স‌ম্মেলন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুরসহ আর‌ও অনেকে। 


 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First