বিএনপি রাজনীতিতে এখন দেউলিয়া: তোফায়েল আহমেদ

news-details
রাজনীতি

।। ভোলা প্রতিনিধি  ।। 

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের মেম্বার ও ভোলা ১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, বিএনপি রাজনীতিতে এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তিন বছর পর পর তাদের দলের সম্মেলন হওয়ার কথা। কয়েকদিন আগে সম্মেলন করার মেয়াদ শেষ হলেও সম্মেলন করতে পারেনি তারা।

আজ রবিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কাচিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এক নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আজ চতুর্থদিনের মতো এ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন সভা ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সদর উপজেলার ধনিয়া, কাচিয়া, বাপ্তা, শিবপুর, ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া মিলে প্রায় দশ হাজার নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষ হলো।

একটি দলের চেয়ারপারসন দুর্নীতি মামলার আসামি হয়ে জেলে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুন মামলার আসামি হয়ে বিদেশে পালিয়ে আছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহেমদ বলেন, এমন খুন মামলার আসামি যদি দলের নেতা হয় তাহলে সে দলের কি অস্তিত্ব থাকে? তাই আজ বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দলের মধ্যে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। ওদের নেত্রী জেলে, কিন্তু ওরা কিছুই করতে পারেনি। বিএনপি না পারে কোর্টে, না পারে মাঠে।

বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন অত্যারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকেও জীবনে সাতবার জেলে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ৩৩ মাস জেলে ছিলাম। সে সময় আমাকে হাত চোখ বেঁধে অত্যাচার করেছিলো। আমি তো মাথা নতো করি নাই। ময়মনসিংহ জেলে ২০ মাস ও কুষ্টিয়া জেল থেকে ১৩ মাস পর মুক্তি পেলাম। আবার ৮২ সালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যান্টনমেন্ট থানায়, পরে কেন্দ্রীয় জেলা খানায়। সেখান থেকে সিলেটে কনসেন্টসন করে আমাকে রাখা হয়েছে ফাঁসির আসামির মতো। ময়মনসিংহ জেলেও আমি তিন মাস সূর্যের আলো দেখিনি। আবারো আমাকে ৮৪ সালে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা কারাগারে ও ৮৬ সালে গ্রেপ্তার করে এক ঘণ্টার মধ্যে ভোলা থেকে বরিশাল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এককভাবে একটি কক্ষে আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তারপর আবার খালেদা জিয়া ৯৬ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের আগে রাজশাহী কারাগারে পাঠিয়েছিলো। ২০০২ সালে বিদেশ থেকে আসার পর বিমানবন্দরে আবার আটক করে প্রথমে কাশিমপুর কাড়াগারে ও পরে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা তো মাথা নতো করিনি। ওদের সব নেতৃবৃন্দ কোনো আন্দোলন ও সংগ্রাম নই। এজন্য বর্তমানের এ অবস্থা বিএনপির জন্য প্রাপ্য ছিলো।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনের সাথে জড়িত ছিলো উল্লেখ করে সাবেক ডাকসুর ভিপি আরো বলেন, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও খুনিদেরকে পার্লামেন্টের মেম্বার করেছে। সে স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতাবিরোধী যারা আমার মায়ের কোল খালি করেছে। বাপকে পুত্র হারা করেছে। তাদেরকে মন্ত্রী করে তাদের গাড়িতে পতাকা দিয়েছে। আর আমাদেরকে পড়িয়েছে হাতকড়া।

২০০১ এর পর এদেশের মানুষের উপর বিভীষিকাময় ভোলার বিভিন্ন যায়গার অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরে সাবেক এ মন্ত্রী আরো বলেন, ঘরের গরু, মাছ, গাছ লুট করা হয়েছে। দিনে দুপুরে গজারিয়ার মালেকের চোখ তুলে নিয়ে মেজর হাফিজ তাকে অন্ধ করে দিয়েছে। মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ কারণেই একাদশ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। আজ আবার কিছু দলছুট লোক, নীতিহীন লোক ঐক্যজোট করেছে। তারা মাত্র ৮টি সিট পেয়েছে।

তাদের চেয়ে জাতীয় পার্টি বেশি সিট পেয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, এমন দিন আসবে বিএনপি নামক দলটির অস্তিত্ব আপনারা খুঁজে পাবেন না।

ভোলার কোনো ইউনিয়নে আর কাঁচা রাস্তা থাকবে না বলে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯৫ ভাগ রাস্তাই পাকা হয়েছে। বাকিগুলোও হবে। আজ ভোলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে। এ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আজকের এ ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে জাতীর জনক এসেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে। সেদিন ভাবছিলাম বড় হয়ে যদি রাজনীতি করি তাহলে এ নেতার রাজনীতি করব। আমি খুব ভাগ্যবান গ্রামের একটি ছেলে, সাধারণ পরিবার সেই ছেলেটি সত্যিই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছি। তার যে কি আদর পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তিনি আমাকে আদর করে ছায়ার মতো পাশে রাখতেন। তাই বঙ্গবন্ধুর রক্তের প্রতি আমি ঋণী।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন এর সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব ও বাপ্তা ইউনয়নের চেয়ারম্যান ইয়ানূল রহমান বিপ্লব মোল্লা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আরজু, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনূছ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর ইসলাম, ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমানসহ কাচিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First