চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা

news-details
জাতীয়

|| নিজস্ব প্রতিবেদক  ||

কঙ্গোতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা বেগমের  দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রোববার বাদ আছর রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর মগবাজার নয়াটোলা জামে মসজিদে তার প্রথম দফা জানাজা ও বেলা ১২টায় মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে দ্বিতীয় ও বাদ যোহর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা বেগমকে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান, চাঁদপুর ৫ আসনের সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, সংসদ সদস্য সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ডিজি র‌্যাব বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়াও মরহুমার প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিসিএস ইউমেন নেটওয়ার্ক, ৭ম বিসিএস ফোরাম, বিসিএস ৮৫ ব্যাচ ফোরাম, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ এর ভাইস রেক্টর মোঃ ইব্রাহীম ফাতেমী, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রিটার্ড পুলিশ অফিসার ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ মরহুমার দীর্ঘদিনের সহকর্মীবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যগণ এবং আত্মীয়-স্বজনরা। ফুলেল শ্রদ্ধা শেষে অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা বেগমকে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ফিউনারেল দেয়া হয়। এসময় বিউগলের করুণ সুরে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। 

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে মরহুমার মরদেহ টার্কিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমানযোগে দেশে এসে পৌঁছে। বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (এএন্ডও) ড. মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী, ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পরিবারের সদস্যরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ তাঁর রাজধানীর মহানগর প্রজেক্টের বাসভবনে নেওয়া হয়। তখন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

উল্লেখ্য, রৌশন আরা ৩ মে মিশনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। কঙ্গোতে পৌঁছেন ৪ মে। মিশনে পৌঁছানের একদিন পর ৫ মে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ ইউনিট সদস্যদের মেডেল প্যারেডে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর ।

রৌশন আরা ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন।  মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ঢাকায় শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমি, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর একই পদে টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মুন্সীগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান।
তিনি দেশের বাইরে যুক্তরাজ্যের পুলিশ স্টাফ কলেজ, ব্রামশিল থেকে স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং কোর্স এবং লিডারশিপ কোর্স ফর ফিমেললিডার’স ইন ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ বাহিনীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইবার আইজিপি ব্যাচ প্রাপ্ত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুলিশ পদক ‘পিপিএম’ লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালীন ‘অনন্যা শীর্ষ দশ-১৯৯৮’ পুরস্কার ও ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন পুলিশের স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১২ লাভ করেন।
তিনি রাজধানী ঢাকার মগবাজারের সাবেক টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ভিকারুননিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স), এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।