২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জলাতঙ্ক ব্যধিমুক্ত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জলাতঙ্ক ব্যধিমুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। পাশপাশি চলছে বিভিন্ন রোগের উপর একের পর এক গবেষণা। চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে গবেষণালব্ধ জ্ঞান। এভাবে পেলিওমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেইট খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম’ এর উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক এবং লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডা. উম্মে রুমান সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক( রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও লাইন ডাইরেক্টর(সিডিসি) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা। কুকুরের কামড় হ্রাসে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ।

জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলে সকলের সহযোগিতা কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ব্যাধি যা একবার হলে মৃত্যু অনিবার্য। সাধারণত কুকুরের কামড় থেকেই ৯০ ভাগ জলাতঙ্ক রোগ হয়। কিন্তু কুকুর আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ও ভিষণ প্রভুভক্ত প্রাণি; বিধায় কুকুর হত্যা করাও সম্ভব নয়। এ অবস্থায় জলাতঙ্ক রোগ যাতে না হতে পারে এবং কুকুরকেও যাতে হত্যা না করতে হয় তার জন্য কুকুরকে টিকা দেবার মাধ্যমে দেশ থেকে জলাতঙ্ক সমস্যা একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হবে। টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই গোটা দেশ থেকে কুকুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ কুকুর রয়েছে। এই কুকুরগুলোর মধ্য থেকে শতকরা ১ ভাগ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ হয়ে থাকে। কুকুর ছাড়াও বিড়াল, বেজি, শিয়াল বা বানরের কামড়েও জলাতঙ্ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে জলাতঙ্ক নির্মূল কার্যক্রমের আওতায় প্রায় বারো লক্ষ আটত্রিশ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়েছে। আগামী ১৪ মে হতে ২০ মে পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে ব্যাপকহারে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান এবং এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।