ঈদের বাজার জমে উঠছে

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

'সাধারণত ১০ রোজার পর ঈদের বাজার জমে উঠতে শুরু করে। সে হিসাব করলে আগামী শুক্রবার থেকে আশা করা যায় ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে উঠবে।' কথাগুলো বলছিলেন মৌচাক মার্কেটের নিউ আফজাল শাড়িঘরের স্বত্বাধিকারী আবদুর রব। তিনি আরও বললেন, 'এরই মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ বেতন পেয়ে গেছেন। কিন্তু ঈদের এত আগে কেনাকাটা করার চেয়ে এখন তারা দেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।' তার কথার সত্যতা মিলল তার দোকানেই আসা শাহজাহানপুরের বাসিন্দা চেমন আরার সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানান, সালোয়ার-কামিজ ইতিমধ্যেই বানাতে দিয়েছেন দর্জিবাড়িতে। তার পরও তিনি রেডিমেড পোশাক, বিশেষ করে শাড়ি কিনতে ঈদের বাজারটা ঘুরে দেখছেন। গতকাল শুক্রবার ছিল চলতি বছরের রমজান মাসের প্রথম শুক্রবার। সকাল থেকেই প্রখর রোদের মধ্যে বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন ক্রেতারা।

রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল নিউ মার্কেট এলাকার গাউছিয়া ও চাঁদনী চকে। পাশাপাশি অবস্থিত এসব বিপণিবিতানে দুপুরের পর থেকেই ভিড় ছিল। তবে ঈদের কেনাকাটার জোয়ার এখনও লাগেনি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। যারা এসেছেন, তারা মূলত ঘুরেফিরে বাজার যাচাই করছেন। তারা সাধ্যের মধ্যে পণ্যগুলো দেখছেন ও পছন্দ করছেন। এরই মধ্যে তাদের কেউ কেউ নিজের জন্য বা পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক কিনেছেন।

নিউ মার্কেটের মেয়েদের সালোয়ার-কামিজের বিক্রেতা  ইব্রাহিম আলী বলেন, 'এখন যারা আসছেন তাদের বেশিরভাগই কেনাকাটার চেয়ে দেখাদেখি ও দর-দামের প্রতি বেশি আগ্রহী। তবে যারা কিনছেন, তাদের বেশিরভাগই কিনছেন শিশু-কিশোরদের পোশাক।' পোশাকের দরদাম নিয়ে এরই মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দাম আগের বছরের মতোই রয়েছে। আবার কেউ বলছেন, এই মুহূর্তে দাম বাড়েনি, কয়েক দিন পর দাম বাড়তে পারে। তবে নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ফররুখ হোসেন জানান, এ বছর জিনিসপত্রের দাম বেশি মনে হচ্ছে। বাচ্চাদের পোশাকের দামটাও বেশি ঠেকছে তার কাছে।

নিউ মার্কেটের বিপরীত পাশে গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটে রমজানের আগেই তরুণী ও নারীদের ভিড় লেগেছে। এখানে মেয়েদের টু-পিস, থ্রি-পিসের বিশাল সমাহারের সন্ধান মেলে সবসময়। ঈদ উপলক্ষে তাতে যুক্ত হয়েছে বর্ণাঢ্য মাত্রা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ভারতের তৈরি সালোয়ার-কামিজের চাহিদাই বেশি। এখানে কেনাকাটা করতে আসা মিরপুর ২ নম্বরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, মেয়ের জন্য সালোয়ার-কামিজ আর তার সঙ্গে ম্যাচিং করা অলঙ্কার পছন্দ করতে এসেছেন। ঘুরেফিরে দেখছেন। তবে এখনই কেনার ইচ্ছা নেই।

পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, বারিধারার যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং মল, এলিফ্যান্ট রোড, মালিবাগের মৌচাক মার্কেট, শান্তিনগরের কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, পলওয়েল সুপার মার্কেট, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, গাজী ভবন, বঙ্গবাজারেও দর্শনার্থী-ক্রেতার ব্যাপক ভিড় ছিল। সাবেক বেইলি রোড বর্তমানে নাটক সরণি বলে খ্যাত। এখানে বেশকিছু শাড়ির দোকানে দেখা গেল ক্রেতার ভিড়। এবারও সুতি প্রিন্ট ও দেশি তাঁতের ওপর হাতের কাজের শাড়িগুলোর চাহিদা সব বয়সী ক্রেতার কাছে বেশি বলে জানান দোকানিরা। টুইন টাওয়ার ও কর্ণফুলী শপিং কমপ্লেক্সে মোটামুটি ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। নাভানা বেইলি স্টার ও ক্যাপিটাল সিরাজ স্টোরেও ছিল সন্তোষজনক ক্রেতার ভিড়। পলওয়েল সুপার মার্কেটে কেনাবেচা জমে ওঠেনি। বিদেশি পণ্যের জন্য নির্ভরশীল এ মার্কেটের জুতা আর বেল্টের দোকানে তরুণ ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দেশের দুই বৃহৎ শপিং মল বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে বরাবরের মতো ভিড় ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।