চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা, রিমান্ডে মুখ খুলছে আসামিরা

news-details
দেশজুড়ে

।।  কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ।। 

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা ভিআইপি পরিবহন লি.’-এর একটি বাসে ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণ করে অন্তত চারজন ধর্ষক। এরপর ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বাঁচতে ওই চারজনই তানিয়াকে হত্যার মিশনে অংশ নেয়। শেষে ঘটনাটির মোড় ঘোরাতে মৃতপ্রায় তানিয়াকে পাঁজাকোলা করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে রেখে আসার চেষ্টা চালায়।

কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ঘটনার রাতেই বাসটির চালক নূরুজ্জামান ওরফে নূরু, হেলপার লালন মিয়া ও লাইনম্যান আল-আমিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পরে তানিয়ার বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বুধবার আদালত এ তিনজনসহ তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আটক পাঁচজনকে আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বর্তমানে বাজিতপুর থানায় চলছে আসামিদের রিমান্ড। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মুখ খুলতে শুরু করেছে ঘাতক বাসচালক, হেলপারসহ অন্যরা। নাম ও পদবি প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রিমান্ড থেকে পাওয়া এসব তথ্যের আভাস দেন।

এদিকে স্বর্ণলতা পরিবহনের যে বাসে তানিয়াকে ধর্ষণ এবং হত্যা করা হয়, পুলিশ সেই বাস বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে জব্দ করে বাজিতপুর থানায় নিয়ে এসেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাসের ভেতরে মেঝেতে রক্তের দাগ লেগে আছে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আসামিরা প্রথম দিন উল্টাপাল্টা কথা বললেও দ্বিতীয় দিন থেকে সত্য বলতে শুরু করেছে। জেলার পুলিশ সুপার সব কিছু তদারকি করছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালত আসামিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এখন মনে হচ্ছে, আট দিনের আগেই আমরা তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জেনে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেবিকা তানিয়া গণধর্ষণ ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। রিমান্ডে প্রচুর তথ্য পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে অতিদ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে সব কিছু প্রকাশ করব। পিবিআই, সিআইডিসহ বেশ কিছু সংস্থা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সহায়তা নেওয়া হবে। তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা চিকিৎসা করানোর নামে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল, যা এখন বেরিয়ে আসছে। আরো একজন ঘাতক এখনো ধরা পড়েনি। তাকে খোঁজা হচ্ছে।’

গত সোমবার রাতে ঢাকার মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনের বাসে শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তিনি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তানিয়া ইবনে সিনা হাসপাতালের কল্যাণপুর ক্যাম্পাসে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত ছিলেন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।