স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির পর হত্যা: মামলা করে বিপাকে পরিবার

news-details
ক্রাইম নিউজ

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

নোয়াখালীর সুধারামে প্রেমের প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ৮ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী রোমানা আক্তারকে হত্যা করেছে এক বখাটে। হত্যাকারী বখাটের  বিরুদ্ধে মামলা করে এখন চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবার। মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামি পক্ষের লোকজন নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে তাদের। আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে জীবনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে নিহত স্কুলছাত্রীর স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকারী স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে থাকায় আসামীকে গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ। ওই হত্যাকারীর স্বজনরা বিভিন্ন মামলা-হামলায় জড়ানো ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। 

নিহতের পিতা নুর মোহাম্মদ ১২ মে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করে মেয়ে হত্যার বিচারে আসামীর দ্রæত গ্রেফতার দাবি করেন। তিনি জানান, ৮ নং এওজবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহের, মেম্বার রফিক উল্ল্যাহ, সাবেক মেম্বার বেলালসহ স্থানীয় এলাকাবাসী আহমেদুল্ল্যা, এলাচ মিয়া ও জামাল মিয়াসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করার বদলে হত্যাকারীর পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বলছে। থানা পুলিশও আসামী গ্রেফতারে কার্যকর কোনো ভুমিকা গ্রহণ করছে না। যার কারণে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি বলে জানান তিনি।

এদিকে এই হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। এওজবালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রোমানা আক্তার হত্যার প্রতিবাদে এওজবালিয়া- করমুল্যাহ সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বখাটে ফারুক স্কুলেই নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো। এর আগে বখাটে ফারুক যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে ঘটনাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানান ওই ছাত্রী। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমলে নেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আছর উদ্দিন জসিম যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টির তদন্ত চলছে, আসামী ফারুক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেফতারের জন্য তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের এওজবালিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রুমানা আক্তারকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে বখাটে ফারুক উত্যক্ত করতো। এ ঘটনা সে তার মা বাবা ও সহপাঠীদের জানালে তারা ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার (৭ এপ্রিল) রাতে রোমানাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একই সাথে তার মা নুর বানুকেও পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় আহত কিশোরী রোমানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মা বানু বেগম গত ৮ মে সোমবার সকালে বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় ফারুক ও তার বাবা আবুল কাসেমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১১, ০৮/০৪/২০১৯ইং)। পরে পুলিশ ঘাতক ফারুকের পিতা আবুল কাসেমকে গ্রেফতার করে কিন্তু ফারুক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।