চাঙসা মেয়রের আমন্ত্রণে চীন যাচ্ছেন রাবি অধ্যাপক

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিনিধি ।। শিক্ষক রাজনীতিতে সর্বদাই সক্রিয় ভূমিকা। টেলিভিশনের টকশোতে রাষ্টের সাম্প্রতিক সমস্যা, শিক্ষার্থীদের সুবিধা, শিক্ষকদের অধিকার-দায় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার আহ্বান, প্রতিবাদ, আলোচনা কারোর দৃষ্টিগোচর হয় না। তার লেখা বইগুলোও আলোচনায় আসছে প্রতিনিয়ত। সবকিছু শেষেও শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয়তার অন্যতম শীর্ষস্থানে আছেন। বলা হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসতাক আহমদের সংক্ষিপ্ত কার্যকলাপ। সম্প্রতি তিনি চীন সরকারের চাঙসা সিটি কর্পোরেশন মেয়রের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সামিট এ অংশগ্রহন করতে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি চাঙসা পেীরসভার মেয়র হুজংজিয়ং ও এশিয়া প্যাসিপিক সিইও এসোসিয়েশন এর সভাপতি ঝেঙয়নজির আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক হাই-এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং সামিট-২০১৯ এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন। সেখানে মুসতাকে আহমেদ এর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সেখানে বিশ্বের প্রায় ৫০০ জন সিনিয়র রাজনীতিবিদ, একাডেমিয়ান এবং সিআইপি অংশগ্রহণ করবেন এবং কম মূল্যে গুণগতমানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও বন্টন বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। এই সামিটের মূল থিম হচ্ছে ‘High quality Economy products for Future Better life’।

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের ছোট জেলা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রাম বিহারপুরে আজিম উদ্দিন আহমেদ ও আকতার হাসনা হেনা আহমেদ এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ড. মুসতাক আহমদ। মা স্বপ্নবিলাসী দুখিনী-গৃহিনী আর বাবা ছিলেন আক্কেলপুর (বেসরকারী) এফ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। সেই বাবার তজ্জনী ধরে স্কুলের পথে হাঁটা তার। ১৯৯১ সালে তিনি এসএসসি প্রথম বিভাগে এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি প্রথম বিভাগে পাশ করেন বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে। তারপর পাড়া গায়ের সেই কিশোর ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকেই ১৯৯৬ সালে (অনুষ্ঠিত ১৯৯৮) বিএসএস এবং ১৯৯৭ সালে (অনুষ্ঠিত ২০০০) এমএসএস পাশ করেন প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে। 

তারপরের গল্প শুধুই স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর বড় হয়ে উঠার। ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উপাচার্য প্রফেসর এম সাইদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিলেকশন বোর্ড ও ২৮ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভার সুপারিশক্রমে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। মায়ের কপালে ভাঁজ ধার নিয়ে মুসতাক আহমেদ শিক্ষক হওয়ার পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাথে চলা। অতঃপর ২০০৪ সালে প্রভাষক ক্যাটেগরিতে সিন্ডিকেট সদস্য পদে নির্বাচন করেন। তখনকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিক্রিয়াশীলদের গণনিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে শিবির উৎপাদনের কারখানা বানানোর ব্যস্ততায় তিনি হেরে যান ৬ ভোটে। তাতেও দমে যান নি তিনি। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে লড়ে চলেছেন। জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক হিসেবে ২০০৯-২০১১ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েক একাডেমিক বই, সম্পাদনা করেছেন ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চেও ভাষণ: বিশ্বস্মৃতিতে আমরা’ নামের গ্রন্থ। উচ্চতর ডিগ্রী করেছেন মিডিয়াতে প্রতিবন্ধীদের উপস্থাপন বিষয়ে।

এর আগে অধ্যাপক মুসতাক আহমেদ ফিলিপাইনে এমিক কনফারেন্সে প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রশংসিত হন এবং ২০১৮ সালে স্যামা কর্তৃক বেস্ট টিচার অব দ্য ইয়ার-২০১৮ অ্যাওয়ার্ড পান।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।