শুরু হয়নি ৫২টি পণ্য প্রত্যাহারের কার্যক্রম

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্য সরাতে হাইকোর্টের আদেশের পরদিন দেখা যায়নি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যক্রম।

প্রতিষ্ঠান দুটি বলছে, আদালতের কপি হাতে পাওয়ার পরই নেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তবে মানহীন খাদ্যপণ্য সরাতে আদেশের কপির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে আইনজীবীরা বলছেন, খাদ্যপণ্য সরাতে যে কোনো ধরনের শিথিলতা আদালত অবমাননার শামিল। আর ভোক্তা প্রতিনিধিরা মনে করেন, আদালতের এ আদেশ নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাই প্রমাণ করে। 

ভোক্তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা নামিদামি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি খাদ্যপণ্য সম্প্রতি অকৃতকার্য হয় বিএসটিআইয়ের মান পরীক্ষায়। আর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে রোববার (১২ মে) এসব মানহীন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণ, বিক্রি বন্ধ ও মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতেও বলেন আদালত।

তবে পরদিন সোমবার (১৩ মে) প্রতিষ্ঠান দুটি রাজধানীতে ভেজালবিরোধী অভিযান চালালেও মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে ছিল না কোনো পদক্ষেপ। এমনকি ওইসব পণ্যের মধ্যে কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে তাদের পণ্য সরাতে কাজ করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছিল না সে তৎপরতাও।

তবে মানহীন ৫২ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আদালতের আদেশের কপির জন্য অপেক্ষার কথা জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, পূর্ণাঙ্গ কপিটি এখনো হাতে এস পৌঁছায়নি। হাতে আসলে অফিস থেকে ডিসিশন নেওয়ার পর আমাদের বিভিন্ন টিম রয়েছে। সবাই এক সাথে কাজ শুরু করে দিবে।  

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবীর বলেন, অফিসিয়াল রিপোর্ট ছাড়া শুধু পত্রিকার রিপোর্ট দেখে কিভাবে বাজার থেকে কাজ করবো। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব মনে করে, মানহীন পণ্যের উৎপাদন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ প্রমাণ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার চিত্র।

কনজ্যুমার অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, আদালত এই অপরাধকে যত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে, প্রশাসন এই অপরাধকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখেছে আমি মনে করি এটা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অপরাধ। 

মানহীন খাদ্যপণ্যগুলো বাজার থেকে সরাতে আদালতের আদেশের কপির জন্য অপেক্ষায় থাকা প্রয়োজন নয় বলেও মনে করেন রিটকারীর আইনজীব ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সার্টিফাইড কপি পেয়ে তারা ব্যবস্থা নিবেন, এটা সম্পূর্ণ নিয়মের বাইরে। 

এর আগে ওইসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও পরবর্তীতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ চেয়ে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

রোববার শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

আদেশে বলা হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ৫২ পণ্য বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় পুনরায় উত্তীর্ণ না হচ্ছে, ততক্ষণ এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া বাজারে থাকা অনুত্তীর্ণ পণ্য প্রত্যাহার করে তা ধ্বংস করতে হবে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।