সোনালী ধানেও মলিণ কৃষকের মুখ

news-details
দেশজুড়ে

সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় বোরো ধান কাটা মাড়াইয়েল ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। একজন শ্রমিক ধান কাটতে সাড়ে ৪শ’  থেকে ৫শ’ টাকা মজুরী নিয়ে থাকে। আবার চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিক খরচ লাগছে ৪ হাজার টাকা। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছে বোরো চাষিরা। লাভতো দুরে থাক, উৎপাদিত ধান বিক্রি করে খরচই উঠছে না। 

জানা গেছে, বৃষ্টি ও প্রখর রোদ থাকায় এবার জমির ধান একসাথে দ্রুত পেকে গেছে। ফলে একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। শ্রমিকের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। গত কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও ফনির কারণে মাঠের বেশির ভাগ ধান নুইয়ে পড়ায় শ্রমিক লাগছে তুলনামূলক বেশী।  

মাঠে মাঠে স্বপ্নের সোনালী পাকা ধান থাকলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে বোরো ২৮ জাতের চিকন ধান চাষ করতে শ্রমিকের মজুরী, জমি চাষ, তেল, সেচ, সার, কীটনাশকসহ মোট  খরচ পড়ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ওই ধান চাষ করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে ২০ মণ থেকে ২৪ মণ। কিন্তু বাজারে বোরো ২৮ জাতের ধানের মূল্য এখন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। 

মৌসুম সময়ে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে দরিদ্র কৃষকের প¶ে ধান মজুদ করে রাখা কোনক্রমেই সম্ভব হয় না। ফলে তারা এই বাজার দরেই বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করছে। এতে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। যা দিয়ে সে উৎপাদন ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছে। উদ্বৃত্ত থাকছে না কৃষকের ঘরে কোন ধান। অনেক পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করা সত্তে¡ও কৃষকের ঘর থেকে যাচ্ছে না চিরায়ত অভাব। 
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।