ব্রেকিং নিউজ

হাতিরঝিলে পুলিশের হাতে সাংবাদিক ইমরুল কায়েস হেনস্তা

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আপনি কি করেন? কার্ড দেখান। অহ এই কার্ড! সাংবাদিক! হু, এসব কোনো পত্রিকা হলো! এসব পত্রিকা মানুষ পড়ে? সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর এভাবেই ক্ষেপে উঠলেন হাতিরঝিল থানার এএসআই শ্রী প্রদীপ বর্ধণ।

 শনিবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বের ঢালে মন্দিরের সামনের ফুটপাতে এভাবেই হেনস্তা শিকার হয়েছেন দৈনিক সময়ের আলো’র অপরাধ প্রতিবেদক মোস্তফা ইমরুল কায়েস।

শুধু তাই নয়, তাকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন সেই এসআই। কিন্তু উপস্থিত লোকজনের কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। এএসআই প্রদীপের ভাষ্যমতে, দেশে সকল অবদান শুধু তার একার ও পুলিশ বাহিনীর, অন্যরা দেশের জন্য কোনো ধরনের অবদান রাখেন না। সকলেই (অন্য পেশার লোকজন) শুধু খায় দায় আর ঘুমায়। এঘটনায় থানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ইমরুল কায়েস জানান, শনিবার বিকেলে তার অফিসিয়িাল মিটিং থাকায় তিনি তড়িঘড়ি করে আসছিলেন। পথে রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম ঢালের নিচে মন্দিরের সামনের ফুটপাতে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু তার পাশেই বসে ছিলেন তিন পুলিশ সদস্য। একজন তাকে বলেন, এই আপনি এখানে দাড়াইছেন কেন? যান অন্যখানে চলে যান। ওই পুলিশকে তখন তিনি বলেন,আমি সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছি, এ কারণে এখানে দাঁড়িয়েছি। এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সঙ্গে থাকা এএসআই প্রদীপ বর্ধণ ওঠে আসেন এবং হাত ধরে টান মারেন। বলতে থাকেন, এইদিকে আনেন, আপনি কি করেন? দেশের জন্য তো আপনাদের কোনো ধরনের অবদান নাই। সবটাই আমাদের করতে হয়। আপনাদের নিরাপত্তাও আমাদের দিতে হয়। এসআইয়ের এমন কথা শুনে আমি তখন প্রতিবাদ করে বলি, শুধু আপনারাই দেশের জন্য সব করেন, আর আমাদের মত আমজনতার কোনো অবদান নাই না? সবার অবদানেই আজকের এই বাংলাদেশ বুঝলেন। এমন প্রতিবাদ শুনে এএসআই প্রদীপ এবার ক্ষেপে উঠলেন-বললেন, আপনি কি করেন? জবাবে বললাম- ছাত্র। কার্ড হাতে দিলাম। এবার তিনি সাংবাদিকতার কার্ড দেখে তাচ্ছিল্য শুরু করলেন। বলতে লাগলেন, এই পত্রিকা কেউ পড়ে? বাজারে কেউ চিনে এই পত্রিকা? আজ জানেন কি দিন? কেন আপনি এখানে দাঁড়াবেন? আপনি তো কিছুই জানেন নাসহ নানা তাচ্ছিল্য সুরে তাকে অপমান করতে থাকেন। বিশেষ করে সংবাদ কর্মী পরিচয় পাওয়ার পর তার গলার সুরটা বেশি বেড়ে যেতে থাকে। ওই সময় সাংবাদিক ইমরুল অফিসে যাবেন প্রদীপকে জানালে তিনি বলতে থাকেন -আজ আপনার যাওয়া হবে না, আপনাকে থাকতে হবে, থানায় যেতে হবে। পরে ইমরুল কায়েস কোনো প্রকার তর্কে না জড়িয়ে সেই স্থান থেকে দ্রুত চলে আসেন এবং বিষয়টি হাতিরঝিল থানার ওসিকে জানান। ওসি তাকে একটি অভিযোগ দিতে বলেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। কিš‘ সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।  

এ ঘটনায় এএসআই প্রদীপ বর্ধণের ফোন নাম্বারে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, তাকে অভিযোগ দিলে বলেছি, অভিযোগ পেলে তার (এএসআই প্রদীপ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ৪ মে রাতে হাতিরঝিলে কয়েকজন মিডিয়া কর্মী রাতে আড্ডা দিতে গিয়ে এই এএসআইয়ের হুমকি ধামকির শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ইসতিয়াক ইমন জানান, তারা বন্ধুরা মিলে রাতের রাউন্ড ডিউটি শেষ করে হাতিরঝিলে মিলিত হয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন । ওই সময় সেখানে আসেন এএসআই প্রদীপ বর্ধণ।  এসেই বলেন, তোমরা এখান থেকে চলে যাও, না হলে থানায় নিয়ে যাব। পরক্ষণই আবার এসে তিনি  তিনি  তাদের কোনো ধরনের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সকলকে মারার হুমকি দিতে থাকেন। সবশেষে আড্ডা দেয়া তরুণদের পরিচয় গণমাধ্যম কর্মী জেনে দ্রুত সটকে পড়েন।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এভাবে প্রদীপ বর্ধণ প্রায়ই হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীদের হয়রানি ও হেনস্তা করেন। অনেক সময় তাদের কাছে টাকা পয়সাও নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি হাতিরঝিলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গেও বাজে ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।

এই হাতিরঝিলকে কেন্দ্র করে পুলিশী পাহারার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের হাতে প্রায়ই অনেক দর্শনার্থী হেনস্তার শিকার হন। এছাড়াও অনেক তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে  হাতিরঝিল থানার কিছু পুলিশ সদস্য হাতঘড়ি, অলঙ্কার ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। সর্বশেষ গত এপ্রিলে জনি নামের এক এক পাঠাও চালক হাতিরঝিল থানার এক এসআইয়ের হাতে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির শিকার হন। পরে তিনি তার পরিবারকে ডেকে নিয়ে এসে তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান। যদিও ঘটনাটি মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি। এমনভাবেই প্রতিদিন অনেকেই হেনস্তার শিকার হলেও থানায় অভিযোগ করছেন না বলে জানা গেছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।