গরমে পছন্দের শীর্ষে সুতি পাঞ্জাবি

news-details
লাইফস্টাইল

আমাদের প্রতিবেদক

ঈদের এখনও বেশ ক'দিন বাকি, এখনই পাঞ্জাবি কিনছেন যে- এ প্রশ্নটি ছিল রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা মুহিত আল কাওসারের কাছে। রাজধানীর বেইলি রোডে কে-কদ্ধ্যাফটে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন তিনি। তাঁতে বোনা সুতি কাপড়ের নকশাদার পাঞ্জাবি কিনছিলেন তিনি। বললেন, পাঞ্জাবি ছাড়া কি ঈদের দিন জমে? কিনতেই যখন হবে, তবে আগেভাগে কেন নয়?

মুহিতের কথাটা আসলে ছেলেদের ঈদের সকালের মূল আমেজের প্রতিরূপ। ছেলেদের ঈদের সকালটা শুরুই হয় ভাঁজখোলা নতুন পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে। যিনি কালেভদ্রে গায়ে পাঞ্জাবি চড়ান, তিনিও সাতসকালে পাঞ্জাবি পরে রওনা হন ঈদের নামাজ আদায়ে। সঙ্গে থাকে আতরের সুগন্ধ।

ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশনসচেতন তরুণদের জন্য নানা নকশা আর কাপড়ের পাঞ্জাবি নিয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুত রাজধানীর বুটিক হাউসগুলো। নতুন পাঞ্জাবিতে ঝলমল করছে বিপণিবিতানগুলো। বছরজুড়ে বাজারে পাঞ্জাবি থাকলেও ঈদের সময় এর চাহিদা ওঠে তুঙ্গে। রঙ-নকশায় আসে নতুনত্ব।

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেল, এবার পাঞ্জাবির নকশায় দেখা যাচ্ছে ফুলেল আবহ। মোগল স্থাপত্যের অলঙ্করণ যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ফুলসহ লতাপাতার নকশাও। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এবার ঈদ হওয়ায় সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবির প্রতিই ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ। সিল্ক্কের মিশেলের পাঞ্জাবিগুলোও চলছে বেশ। সুতির প্রতি আগ্রহ বেশি থাকলেও খাদি, এন্ডি, এন্ডিসিল্ক্ক, জয়সিল্ক্ক, দুপিয়ান, নিট ইত্যাদি কাপড়ের প্রতিও ক্রেতাদের দৃষ্টি রয়েছে।

বেইলি রোডে কে-কদ্ধ্যাফটের শোরুমে দেখা গেল নানা নকশার পাঞ্জাবি। টেক্সটাইল, তাগানকশিকাঁথা, বাইজেনটাইন, ক্রসস্টিচ, ইসলামিক আর্ট, প্রাচীন আফ্রিকা, রোমানিয়ান আঁকাবাঁকা মোটিফ রয়েছে সেখানে। আর কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি, এন্ডি, এন্ডিসিল্ক্ক, জয়সিল্ক্ক, দুপিয়ান, নিট, জ্যাকার্ড, ন্যাচারাল, ইয়ার্নডায়েড এন্ডি, তাঁতে বোনা সুতি কাপড়, টুটোন, আদ্দিভয়েল।

বসুন্ধরা সিটির ইনফিনিটি মেগা মল ঘুরে দেখা গেল, লম্বা ও খাটো- দু'ধরনের পাঞ্জাবিই রয়েছে সেখানে। এখানকার পাঞ্জাবিগুলোতে ফুলেল আবহ, মোগল স্থাপত্যের অলঙ্করণে থাকা ফুলসহ লতাপাতার ব্যবহার আছে পাঞ্জাবির বাটনপ্লেট, কলার ও হাতার ওপর-নিচে। আছে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ছাপার কাজও। সঙ্গে যোগ হয়েছে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, সুতার নকশা, বাটিক, কাতান কাপড়ের নকশা।

ইনফিনিটির প্রধান ডিজাইনার নাইমুল হক খান বলেন, এবারের পাঞ্জাবিতে সুতি কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। আছে সিল্ক্কের মিশেলও। ভিসকস, খাদি, বিদেশি কাপড় দিয়েও তৈরি করা হয়েছে ঈদের পাঞ্জাবি। গরমের বিষয়টি মাথায় রেখেই ঈদের পাঞ্জাবির কাপড় ও নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে রয়েছে পাঞ্জাবির বড় কালেকশন। সেখানকার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইজিতে এক হাজার ৪৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে ঈদের পাঞ্জাবি মিলছে। 'সুইসুতা'য় বেসিক পাঞ্জাবির মূল্য ধরা হয়েছে ৯৫০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা, ব্লকের পাঞ্জাবি এক হাজার ১৫০, এমব্রয়ডারি পাঞ্জাবি এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৬৫০ ও মোটিভের পাঞ্জাবির মূল্য এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা।

এর বাইরেও পাঞ্জাবির দারুণ সব কালেকশন রয়েছে অঞ্জন'স, রঙ, আড়ং, অন্যমেলা, নিত্যউপহার, বিবিআনা, নগরদোলা, সাদাকালো, বাংলার মেলা, ওজি, লুবনান, প্লাস পয়েন্ট, টেক্সমার্ট, ক্যাটস আই, ইয়োলো, দেশাল, সেইলরে।

বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবার কারুকাজ ছাড়া পাঞ্জাবির দাম কিছুটা কম। একরঙা, ছাপা পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। তবে ভারী কাজের পাঞ্জাবির দামটাও ভারী। আড়াই হাজার থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাঞ্জাবির দাম।

এর পাশাপাশি পাঞ্জাবির জন্য বিখ্যাত রাজধানীর পীর ইয়ামেনী মার্কেট এখন জমজমাট। সর্বনিম্ন আড়াইশ' টাকা থেকে তিন-চার হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি রয়েছে সেখানে। এখানকার বিক্রেতা ইলিয়াস মোল্লা বলেন, এবার ঈদে শর্ট পাঞ্জাবি, নবাব, বুটা, পিডি, বল শেরওয়ানি, রেমবো, রিচি ও হাজারি বুটা নামের পাঞ্জাবি ভালো চলছে। পাঞ্জাবির জন্য আরেক বিখ্যাত বিপণিবিতান আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স। এ শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় পাঞ্জাবি-পাজামার ৫০টির বেশি দোকান রয়েছে। সেখানেও বিক্রি ভালো।

পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পাজামার বিক্রিও হচ্ছে। আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পারভেজ স্টোরের বিক্রয়কর্মী সেলিম বললেন, গত বছরের তুলনায় এবার রোজার শুরু থেকেই বেচাকেনা ভালো। বড়দের পাজামার দাম ২০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে রাখা হচ্ছে এ দোকানে।

তবে ব্র্যান্ডের দোকানগুলো পাজামার দাম শুরু ৮০০ টাকা থেকে। আবার অনেক ব্র্যান্ডই দামি পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে বিনামূল্যে পাজামা দিচ্ছে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।