ব্রেকিং নিউজ

স্ত্রীর পরিকল্পনায় খুন করে ইয়াবাসঙ্গীরা

news-details
ক্রাইম নিউজ

আমাদের প্রতিবেদক

মহসিন আলম ওরফে সুমন। বয়স ৩৮ বছর। গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার দক্ষিণ নাটৈ। ১০ বছর আগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। পরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে বাসা ভাড়া নেন। বছর তিনেক আগে মাদকাসক্ত বন্ধু বশির ভাণ্ডারী, হালিম, রফিক, সোহেল ও জাকিরের সঙ্গে ইয়াবা সেবন শুরু করেন। এমনকি বন্ধুদের নিয়ে নিজের ঘরেই বসান ইয়াবা আড্ডা। সুমনের অনুপস্থিতিতেও বন্ধুরা তার বাসায় ঢুকে ইয়াবা সেবন করত। একপর্যায়ে সুমনের স্ত্রী মুক্তা আক্তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে ইয়াবা সেবন শুরু করে। ইয়াবা সেবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা। ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে বশির ও রফিকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মুক্তা। এ অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় ৯ মে সুমন খুন হয়েছে বন্ধুদের হাতে। হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তার স্ত্রী মুক্তা।

সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বশির ও মুক্তা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। কেন, কোথায়, কীভাবে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে তা আদ্যোপান্ত বলেছে তারা। 

গত ৯ মে ঢাকার আমিন বাজারের বড়দেশী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় মহসিন আলম সুমনকে উদ্ধার করে পুলিশ। মুমূর্ষু অবস্থায় পুলিশের গাড়িতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। তখন তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাত হিসেবে লাশ রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে। ১১ মে আঙুলের ছাপে তার পরিচয় মিলে। পরদিন তার লাশ মর্গ থেকে স্বজনরা নিয়ে যান বরিশালের গ্রামের বাড়ি। 

হত্যার ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১২ মে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে কয়েকদিনের মধ্যেই হত্যারহস্য বের করে আনতে সক্ষম হন সাভারের আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই জামাল হোসেন। তিনি সমকালকে বলেন, মুক্তা ও বশিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর ধরে রাতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন সুমন। সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হতেন, ভোরে কিংবা সকালে বাসায় ফিরতেন। এপ্রিল মাসের শেষে রাত ১২টার দিকে সুমন বাসায় ফেরেন। ঘরে ঢুকে একই বিছানায় স্ত্রী ও বশিরকে দেখে ফেলেন। বশির কোনো কথা না বলে বেরিয়ে যায়। রাতেই স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করেন সুমন। শুরু হয় কলহ। অবৈধ সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় রফিক, বশির ও মুক্তাসহ অপর বন্ধুরা মে মাসের শুরুতে ঢাকা উদ্যান এলাকায় একত্র হয়ে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।