সিইসির হাতে ‘ভোট জালিয়াতি’র প্রমাণ দিয়ে যা বললেন ফখরুল

news-details
রাজনীতি

।। নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরোধী এ নির্বাচনী জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন ভবনে এসে সিইসির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপির শিরোনামে বলা হয়েছে- অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, ভোট জালিয়াতি, সরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নজিরবিহীনভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাঠ পর্যায়ের কোনো স্তরেই নিয়ন্ত্রণ ছিল না নির্বাচন কমিশনের, একজন কমিশনারের বক্তব্যে তা প্রমাণ হয়েছে। দীর্ঘ দশ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আবারও বঞ্চিত করার দায় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।

তিনি বলেন, মজার বিষয় হচ্ছে- ব্যালট পেপারের মুড়িতে সই বা টিপ সই লাগে ভোটারের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নেই। প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দায় ইসিকেই বহন করতে হবে। কেননা, নির্বাচনের আগের রাতেই ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে বাধা দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের আগের দিন ও রাতে পোলিং এজেন্ট এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানারকম হুমকি দেয়া হয়, গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ক্ষেত্রেবিশেষে ভোটকেন্দ্রে আসলেও এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।

বিএনপি এই নেতা বলেন, প্রায় সকল কেন্দ্রেই দুপুরের মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির নামে ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। নজিরবিহীনভাবে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। কোনো কোনো কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়, যা নজিরবিহীন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখানের জন্য নিজেদের লোক লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। নির্বাচনে নিয়োগ দেওয়া হয় আাওয়ামী লীগের পদধারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। অনেক ভোটকেন্দ্রেই বিকাল ৪টার আগেই ভোটগণনা শুরু করা হয়। সারাদেশে জালভোটের মহাউৎসব চললেও কোথাও একজন জাল ভোট প্রদানকারীকেও গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে মশকরা (উপহাস) করেছে। জাতিকে অন্ধকারে দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এজন্যই প্রত্যাখান করেছি। পুনর্নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব ঠিক আছে। ইসিকেই তো দাবি জানবো, তারাই নির্বাচন করেছে। তারা (নির্বাচন কমিশন) শুধু স্মারকলিপি গ্রহণ করেছে। কোনো কথা নেই তো। শপথ নেওয়ার প্রশ্ন আসে কোত্থেকে। আমরা তো ফলাফল প্রত্যাখান করেছি। 

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন (দশম সংসদ নির্বাচন) বর্জন করেছিলাম, সেটাই সঠিক, তা প্রমাণ হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরবর্তীতে কি কর্মসূচি দেওয়া হবে তা পরে জানবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত রায় চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।


 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First