ওসি মোয়াজ্জেম লাপাত্তা : জামিনের বিরোধিতা করবে রাষ্ট্রপক্ষ

news-details
দেশজুড়ে

 রংপুর প্রতিনিধি 

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্ট থেকে যাতে জামিন না পান সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘সে (মোয়াজ্জেম হোসেন) যাতে জামিন না পায় সে জন্য আমরা জোরেশোরেই চেষ্টা চালাব।’ গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

হাইকোর্ট থেকে কোনো আদেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে গতকালও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তাঁর কোনো হদিস মিলছে না। পরোয়ানা জারির আগে তিনি রংপুরে যোগদান করেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১২ মে তিনি রংপুর ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর ওই মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারে চলে যান। কর্মস্থলে তিনি অনুপস্থিত কি না জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যতদূর সম্ভব তিনি ছুটি নিয়ে যাননি।

মোয়াজ্জেমের পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরতলির চাঁচড়া ডালমিল এলাকায়। 

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা  জানান, ‘মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখন পর্যন্ত কোতোয়ালি থানায় আসেনি।’

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ খুরশীদ আলম খান ও আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিম্ন আদালতে (বিচারিক আদালত) আত্মসমর্পণ না করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। আর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলেই যে তিনি জামিন পাবেন এমনটি নয়।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তাঁর জবানবন্দি ভিডিওতে ধারণ করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নুসরাতকে হত্যার ঘটনার পরই নুসরাতের জবানবন্দির (ওসির কাছে দেওয়া) বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৭ মে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর পলাতক অবস্থায় আগাম জামিনের জন্য বুধবার (২৯ মে) হাইকোর্টে আবেদন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।