কেজিতে ৩ টাকা কম নির্ধারণ, বিএডিসির গম চাষিদের আন্দোলনের হুমকি

news-details
দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

চলতি বছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বীজের গম ক্রয়ের মূল্য গত বছরের চেয়ে কম নির্ধারণ হওয়ায় চুক্তিবদ্ধ গম চাষিরা হতাশায় মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছেন।

চাষিদের দাবি, গত বছরের চেয়ে বাজারে এবার গমের দাম বেশি তারপরেও এবার প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্রতি কেজি প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজের গমের দাম ছিল ৩৫ টাকা। এ বছর তা ৩২ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বাজারে কাঁচা গমের বাজার ছিল প্রতি কেজি ১৯ টাকা। আর এবার বাজারে কাঁচা গম ২৩ টাকা থাকলেও বিএডিসি বীজের গম কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে চাষিরা লোকশানের মুখে পড়বে এমন দাবি জানিয়ে বিএডিসির বীজ উৎপাদিত চাষিরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দাম বৃদ্ধির দাবিতে দরখাস্ত দিচ্ছেন। এতে কাজ না হলে তারা রাস্তায় নামতে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসির চুক্তি বদ্ধ চাষি ফোরামের সভাপতি কুতুব উদ্দীন (কুতুব চেয়ারম্যান) বলেন, বাংলাদেশে গম উৎপাদনের প্রধান জেলা ঠাকুরগাঁও। এখানে ৩টি জোনের মাধ্যমে চুক্তি বদ্ধ চাষিদের থেকে মানসম্মত বীজ ক্রয় করে বিএডিসি। কিন্তু বিএডিসি বিগত বছরগুলোতে গম বীজের দাম ঠিক দিলেও এবার অন্যায়ভাবে কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। চুক্তিবদ্ধ চাষিরা যদি লোকশানে পড়ে তাহলে বীজ উৎপাদনে অনাগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই চাষিদের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ পুনরায় মূল্য নির্ধারণ করবেন-এই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মূল্য বৃদ্ধির দরখাস্ত পাঠানো হয়েছে। গম বীজের মূল্য বৃদ্ধি না করলে চাষিরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসির চুক্তি বদ্ধ চাষি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম এমদাদুল হক বলেন, বিএডিসি‘র এই মনগড়া সিদ্ধান্তে আমরা চুক্তিবদ্ধ চাষিরা হতাশ। এর জন্য নিন্দা জানাচ্ছি। বিএডিসির চিন্তা করা উচিৎ ছিল যে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদন করবে না। আর উৎপাদন না করলে বিএডিসি থাকবে না। আমরা ভেবেছিলাম বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার গমের দাম বেশি। তাই বিএডিসিও গমের দাম বেশি দিবে। কিন্তু শেষে তারা গত বছরে চেয়ে কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে। মানসম্মত বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ১০ থেকে সাড়ে ১০% আদ্রতায় নেয় বিএডিসি। এতে কমপক্ষে প্রতি কেজি ৩৩ টাকার উপরে পড়ে যায়। ৩ মাস পরে বীজের টাকা পায় চাষিরা। এতে ২ টাকা লাভ না পেয়ে যদি ২ টাকা লোকশান পায় তাহলে চাষিরা কেমনে বাঁচবে। বিএডিসি যদি দ্রুত সময়ে গম বীজের মূল্য ৩৬ টাকা না করে তাহলে চাষিরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।  

জেলা মার্কেটিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা গম ১৯-২০ টাকা বিক্রি হলেও এবার ২৩-২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলায় গমের আবাদ কমে যাওয়ায় চাষিরা এবার ভাল দাম পেয়েছে।  

বিএডিসি‘র ঠাকুরগাঁও কন্ট্রাক গ্রোয়ার্স জোনের উপ-পরিচালক আওলাদ হাসান সিদ্দীকী বলেন, আমরা বীজ ক্রয়ের সময় চাষিদের উৎপাদন খরচ ও বাজার মূল্য কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ গম বীজ ক্রয়ের মূল্য ভিত্তি বীজ ৩৮ ও প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ ৩২ টাকা নিধার্রণ করেছে। কিন্তু এই দর চাষিরা না মানায় দরখাস্ত দিয়েছে। গম বীজের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত চাষিদের দরখাস্ত পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।