ওসি মোয়াজ্জেমের খুঁটির জোর কোথায় : ব্যারিস্টার সুমনের প্রশ্ন

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় বা আদালতে আত্মসমর্পন না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেছেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন। কিন্তু তিনি আদালতে আসছেন না বা নিন্ম আদালত বা আইন শৃংখলাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করছেন না। আইন শৃংখলাবাহিনী এখনও তাকে কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না? তার খুঁটির জোর কোথায়?

আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। আগামী ১৬ জুনের মধ্যে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করতে আইন শৃংখলাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। 

তিনি বলেন, এমন কাজ নেই যা পুলিশ প্রশাসন করতে পারে না। ভুরিভুরি উদাহরণ রয়েছে, মামলা হওয়া বা ঘটনা ঘটার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিকে ধরা হয়েছে। নুসরাত হত্যাকান্ডের মামলায় ১৬ জন আসামীকে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে এনেছেন। হত্যা মামলায় তদন্ত করতে পিবিআই একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই তদন্তেও তিনি (মোয়াজ্জেম) দোষী প্রমানিত হয়েছে। এরপরও পুলিশ তাকে (মোয়াজ্জেম) চোখে চোখে রাখতে পারলো না কেন? পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, তারা (পুলিশ) ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে চাচ্ছে কিনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন প্রবল হচ্ছে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন থানায় ডেকে নিয়ে নুসরাতের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসির বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুালে মামলা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। এই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এর কিছুদিন পর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন ওি মোয়াজ্জেম। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে এই জামিন আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইন শৃংখলাবাহিনী মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারনি। এনিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী এরইমধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, যৌন হয়রানি অভিযোগের মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী ও বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে মারা যায়। নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পৃথক একটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় এরইমধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।