ঋণখেলাপীরা প্রণোদনা পেলে কৃষকরা কেন পাবে না : মেনন 

news-details
রাজনীতি

আমাদের প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, যে কৃষক তেভাগা আন্দোলনে আওয়াজ তুলেছিল ‘জান দেবো, তবু ধান দেবো না’- সেই কৃষক আজ  ধানের দাম না পেয়ে ক্ষেতে ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে।এর দায় সরকারকে নিতে হবে। সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে- এটাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কৃষি পণ্য ক্রয়েও ভর্তুকি দিতে হবে। পোশাক কারখানা মালিক, ঋণখেলাপী, কালো টাকার মালিকরা প্রণোদনা পেলে কৃষক তার শস্য বিক্রিতে কেন প্রণোদনা পাবে না?

শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কনভেনশনে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, বর্তমানে ধান উৎপাদনে বেশি খরচের পেছনে ক্ষেতমজুরদের মজুরিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরে কৃষক ও ক্ষেতমজুরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ ক্ষেতমজুররা মাত্র তিন মাসের কাজের সময়ে দৈনিক ৭০০-৯০০ টাকা পায়। এ অর্থ দিয়ে তাদের পুরো বছরের সংসার চালানো ও খোরাক যোগাতে হয়। উল্টো দিকে এই কামলার অভাবকে পুঁজি করে এবারের বোরো মৌসুমে সরকারি কর্তাব্যক্তিরা বিভিন্ন সংগঠন যেভাবে জিন্স-টি শার্ট, নতুন লুঙ্গি-গামছা পরে ফটোসেশনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলো তা রীতিমতো ক্ষেতমজুরদের উপহাস করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারবে কৃষক-খেক্ষেমজুর কনভেনশনের ঘোষণাকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত করতে।

কনভেনশনে প্রধান বক্তা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, উদার নৈতিক পুঁজিবাদ অনুসরণ করে রাষ্ট্র কৃষক-ক্ষেতমজুরদের শোষণ করছে। আজ ৯৫ ভাগ মানুষের শ্রমের উৎপাদন ৫ ভাগ লুট করে খাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ আজ শোষণের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। আর তাই কনভেনশন ঘোষণাকে আন্দোলনে রূপ দিয়ে সংগঠিত সংগ্রাম গড়ে তুলে দাবি আদায়েই একমাত্র পথ।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।