কুমিল্লায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে ৫০০ বছরের বলী নারায়ণ দীঘি

news-details
দেশজুড়ে

  কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় দখল-ভরাটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বলি নারায়ণ দীঘি। শহরতলির গুরুত্বপূর্ণ দুর্গাপুর-কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত কালের সাক্ষী এ দীঘিটি প্রভাবশালীরা ভরাট করে বেচাকেনা করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের কুমিল্লার সর্ববৃহৎ ট্যাংক খ্যাত ১০ একর আয়তনের এ দীঘি ক্রমেই ছোট হয়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নানা কৌশলে এ দীঘি ভরাট অব্যাহত থাকলেও এ নিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এদিকে বিশাল আয়তনের এ দীঘিটি এলাকার পরিবেশ রক্ষায় কাজে এলেও এ দীঘির অস্তিত্ব রক্ষায় রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে পরিবেশ অধিদফতর। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাচীনকালে রাজা প্রথা চলাকালীন প্রজাদের পানি সমস্যা সমাধানে নারায়ণ নামের এক হিন্দু জমিদার প্রায় ৫০০ বছর আগে বর্তমান কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় বিশাল এ দীঘি খনন করেন। দীঘিটি খননের পর হিন্দু অধ্যুষিত এ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন পূজা-পার্বণসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান এ দীঘির পাড়েই সম্পন্ন করতেন। বিভিন্ন দেবতাকে উৎসর্গ করে পাঠা বলি হতো এ দীঘির পশ্চিম পাড়ে। এভাবে ‘বলি নারায়ণ’ দীঘির নামকরণ করা হয় বলে অনেকের অভিমত। ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাত রোডের পাশে বিশাল আয়তনের এ দীঘি প্রাচীনকাল থেকেই এলাকাটিকে দীঘিরপাড় হিসেবে পরিচিত করে তোলে। এ দীঘিকে কেন্দ করে দীঘির চারপাশে গড়ে উঠেছে বিশাল আবাসিক এলাকা। যুগ যুগ ধরে দীঘিটি এ দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে শীতল পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। আদিকাল থেকে এ দীঘি এলাকার পানীয় জলের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে হাজার হাজার মানুষের সাংসারিক, গৃহস্থালিসহ নিত্যপ্রয়োজনের কাজে ব্যবহার হলেও বর্তমানে একশ্রেণীর দখলদার চক্রের কবলে পড়ে দীঘিটি চারপাশ ভড়াট হয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে দীঘির জলসীমা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভরাট কাজে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকায় এ নিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। জেলা প্রশাসন থেকে এ দীঘি ভরাট বন্ধের নির্দেশনার পরও থেমে নেই ভরাট ও নির্মাণ কাজ। বর্তমানে দীঘিটির উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে বাসাবাড়ি এবং দক্ষিণ পাড় এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীঘি ভরাটের বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরে মৌখিক অভিযোগ করার পর এ দফতরের কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। তবে ভরাট বন্ধে এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। স্থানীয়রা জানান, দীঘিটির মালিক বর্তমানে প্রায় ৪১ জন। আর্থিকসহ নানা কারণে মালিক পক্ষের কেউ না কেউ বিক্রি করে দিচ্ছেন তাদের অংশবিশেষ। এরপর নতুন ক্রেতারা ভরাট করে ভবন নির্মাণ করছেন। ভরাট কাজে বিক্রেতারা সহযোগিতা করছেন বলে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

কুমিল্লার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সামছুল আলম বলেন, দীঘি ভরাট দেখা ছাড়াও আমার অনেক কাজ আছে, এ নিয়ে কথার বলার জন্য আমার হাতে সময় নেই। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, খাল-বিল-দীঘি-পুকুরসহ সব ধরনের জলাশয় দখল ও ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছি। ইতিপূর্বে দখলদারদের তালিকা তৈরি করে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছি। এখনও নতুন নতুন দখলদারের তালিকা তৈরির কাজ অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, বলি নারায়ণ দীঘিসহ নগরীর সব দীঘি-পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।