মাদারীপুরের কলেজছাত্র হত্যায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

news-details
আইন-আদালত

 আমাদের প্রতিবেদক

মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র অহিদুজ্জামান (২৮) হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন এক আসামি।

 আজ বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মনির কামাল এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন লেনিন ব্যাপারী, শাহাবুদ্দিন দর্জি, ফয়সাল আহমেদ ও রেজাউল ব্যাপারী। তাঁদের মধ্যে রেজাউল পলাতক। খালাসপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হলেন মহিউদ্দিন দর্জি।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৮ মার্চ মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার কাশিমপুর চরদিঘলিয়ার শাহপাড়া এলাকার ভুট্টাখেতে অহিদুজ্জামানের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম বাদী হয়ে সিঙ্গাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পরের বছর ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার নথিপত্র বলছে, অহিদুজ্জামান ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে কমনরুম সেক্রেটারি পদে বিজয়ী হন। অহিদুজ্জামান সব সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহিউদ্দিন, লেলিন, শাহাবুদ্দিন, ফয়সালের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। লেলিনের চাচা রেজাউল অহিদুজ্জামানের বন্ধু মহিউদ্দিনকে ইতালি নিয়ে চাকরি দেন। পরে অহিদুজ্জামান নিজে ইতালি যাওয়ার জন্য মহিউদ্দিন ও রেজাউলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বন্ধু মহিউদ্দিনের কথামতো রেজাউলকে ১০ লাখ টাকা দেন অহিদুজ্জামান। কিন্তু অহিদুজ্জামানকে ইতালি নিতে না পারায় আসামি রেজাউল তাঁকে বলেন, তিনি যে টাকা নিয়েছিলেন তা ফেরত দিয়ে দেবেন। এ সময় অহিদুজ্জামানের পরিবার এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করে। ওই মেয়েটিকে ভালোবাসতেন আসামি ইতালিপ্রবাসী রেজাউল। প্রেমিকাকে না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে রেজাউল বিদেশে বসে অহিদুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অহিদুজ্জামানকে তাঁর বন্ধু আসামি মহিউদ্দিন জানান যে সাভারের এক লোকের কাছে তিনি টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা আনতে অহিদুজ্জামান গেলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাইরের কাশিমপুর এলাকার শাহ ব্যাপারী নামের এক লোকের ভুট্টাখেতে। আসামি লেলিন, শাহাবুদ্দিনসহ অন্যরা শ্বাসরুদ্ধ করে অহিদুজ্জামানকে হত্যা করেন। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি লেলিন, শাহাবুদ্দিনসহ তিনজন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি মাহবুবুর রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন মাহাবুব আহমেদ। এ মামলায় ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।