দুই-একদিনের মধ্যে হজ যাত্রীদের ভিসা কার্যক্রম শুরু হবে : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, গত ১৮ জুন থেকে হজ যাত্রীদের ভিসা দেওয়ার কথা। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। তাই ওই দিন ভিসা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছি।

আজ বুধবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ‘হজ চিকিৎসক দলের প্রশিক্ষণ ২০১৯’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এস কথা বলেন । 

এ বছর হজ যাত্রী পরিবহন নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বলেন, এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করবে। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬০ হাজার টিকিট বিক্রি করেছে। সৌদি এয়ারলাইন্স ৩০ হাজারের মতো টিকিট বিক্রি করেছে। বাকি ১০ শতাংশ টিকিট শিগগির বিক্রি শেষ হবে। ফলে এবার যাত্রী পরিবহন নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। আশা করি বিমান শিডিউল বিপর্যয়ে পড়বে না।

তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় এবার হজ যাত্রা স্বাচ্ছন্দময় হবে। আমরা হজ যাত্রীদের সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর হজ সেবা শুধু আমরা চাইলেই সর্বোচ্চ দিতে পারবো না, এটা সৌদি কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে। তারা প্রতিনিয়ত নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসছে। আমরা সুবিধা চাই, কিন্তু তারাও চেষ্টা করছে।

হজ যাত্রীদের সেবা দিতে চিকিৎসক দলে অন্য বছরের মতো ক্লিনার-চালকের মতো লোক যাবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বছর সব অফিসকে অনুরোধ করেছি, যোগ্যতার বাইরে কেউ যাতে না যায়। হজ পবিত্রতম জায়গা। এখানে যেনো যোগ্যতম লোক দেওয়া হয়। সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকরা যাবে। সেখানে গিয়ে যাতে শপিং না করে অযথা ঘুরে না বেড়ায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এটা নিশ্চিত করতে বলেছি।

তিনি আরো বলেন, সরকার ইচ্ছে করলেও নিজেদের মতো করে সেবা দিতে পারবে না। সৌদি যেভাবে চায়, সেভাবেই সবকিছু করতে হয়। সেখানে চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না। আমরা তারপরও সব চেষ্টা করবো সর্বোচ্চটা দেওয়ার। অতীতে হজ ব্যবস্থাপনায় যেসব ঘাটতি ছিলো, এবার তা থাকবে না।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের মতো করে টিকিট বিক্রি করে। এবার আমাদের বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর নতুন কিছু চিন্তা করা হবে। আমরা তাদের বলেছি যাতে সব এজেন্টের কাছে হজের টিকিট বিক্রি করা হয়। কিন্তু তারা একপর্যায়ে বলে, হজ যাত্রী পরিবহন করবে না।

হজ যাত্রীদের জন্য জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজ যাত্রীরা যেনো সেবা পায়, সেজন্য চিকিৎসকদের সচেষ্ট থাকতে হবে।

হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, অন্য যেকোন বছরের তুলনায় এবার হজ ব্যবস্থাপনা ভালো। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, হজ শুধু বাংলাদেশের না, এটা আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয়। সৌদি যেভাবে চাইবে, সেভাবেই এ কাজগুলো করতে হয়।

হজ যাত্রী পরিবহনে সৌদি এয়ারলাইন্স সিন্ডিকেট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করে হাব সভাপতি বলেন, তারা সব এজেন্টকে টিকিট দিচ্ছে না। নির্দিষ্ট এজেন্টের কাছে টিকিট দিয়েছে। তারা সিন্ডিকেট করে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে। যদিও মন্ত্রণালয় চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হজ ক্যাম্প মসজিদের ইমাম এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। হজ চিকিৎসক দলকে প্রশিক্ষণ দেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।