রাজীবের ২ ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

news-details
আইন-আদালত

আমাদের প্রতিবেদক

দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দুই বাস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে। রাজীব হোসেন (২১) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

গত বছর ওই ঘটনায় দায়ী বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। দুই বাস কর্তৃপক্ষ আপিল করলে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেন উচ্চ আদালত। এরপর বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। হাইকোর্টে ওই কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার জন্য স্বজন পরিবহনের বেপরোয়া চালক দায়ী। হালকা যানের চালককে দিয়ে ডাবল ডেকার চালানোর জন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে।

এরপর ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল রাজীবের আহত হওয়ার এক বছর পূর্তির দিনে ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে মৌখিক আবেদন করেন। পরে ১০ এপ্রিল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে রুলটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার কিছু পর্যেবেক্ষণসহ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

গত বছর ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজীব। এ সময় তার হাতটি সামান্য বাইরে বেরিয়ে ছিল। হঠাৎ করেই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিকে ঢুকে পড়ে। আচমকা দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্রুত তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রথম দিকে রাজীবের অবস্থা সাময়িক উন্নতি হলেও ১৬ এপ্রিল থেকে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ওই দিন রাত পৌনে একটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

রাজীবের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অপরাধজনক প্রাণহানি’ উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় মামলা হয়। এক বছরেও পুলিশ সে মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ আলী ও স্বজন পরিবহনের চালক মো. খোরশেদকে গত বছরই গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গত এক বছরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলালেও আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েনি।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।