ব্রেকিং নিউজ

দুদকের মামলায় জামিন নিতে গিয়ে কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

news-details
আইন-আদালত

  বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন নিতে এসে জেলহাজতে গেলেন সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদুকের পিপি আবুল কালাম আজাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের পাট ক্রয়কেন্দ্র ছিল।

ব্রিটিশ সরকারের সময় ২ একর ৩৮ শতকের জমিটি সুরুজমল আগরওয়ালা নামে এক ব্যক্তির কাছে হুকুম দখল করা হয়েছিল। বগুড়া শহরের কালীতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ গত ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন।

প্রতি বছর লিজ মানি ধার্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি। তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

লতিফ সিদিকী তার একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ১১ পয়সা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা ১১ পয়সায় বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয়।

এদিকে মূল্যবান ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন।

পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে রিট করলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম ২০১৪ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেন।

তদন্ত শেষে গত ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় এ মামলা করেছিলেন।

অপরাধের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাতি গ্রামের মৃত আবদুল আলী সিদ্দিকীর ছেলে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং বগুড়া শহরের কালীতলা এলাকার মৃত হারুণ-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট (নং-৩৭, আদমদীঘি থানা) দাখিল করেন।

দুদুকের পিপি আবুল কালাম আজাদ জানান, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বৃহস্পতিবার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বেচ্ছায় স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।

আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে হাজতে পাঠানো হয়। দুদক পক্ষে তিনি এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট হেলালুর রহমান জামিন শুনানিতে অংশ নেন।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।