আদালতের সাবেক নাজির রবিউলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

news-details
জাতীয়

যশোর প্রতিনিধি 

জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ন সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখার অপরাধে শহরের গাড়ি খানার মৃত ইসহাক সরদারের ছেলে জেলা জজ আদালতের সাবেক নাজির রবিউল ইসলামের নামে দুর্নীতির মামলা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারি পরিচালক মোহা: মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলা নং-৫৫। তারিখঃ২৩.০৬.১৯। ধারাঃ ৪০২/৪২০/দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১)।

মামলায় বলা হয়েছে, যশোর জেলা জজ আদালতের সাবেক নাজির রবিউল ইসলাম তার নিজ নামে ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বর্গের নামে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পদ ও ১৪ ভরি স্বর্নালংকার থাকার ঘোষনা দিয়েছেন। অভিযোগ যাচাইকালে তার নিজ নামে ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বর্গের নামে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯ শ ৯৭ টাকার সম্পদ ও ১৪ ভরি স্বর্নালংকার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে রবিউল ইসলাম দুদকে ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৯ শ ৯৭ টাকার সম্পদের কম ঘোষনা দিয়ে তথ্য গোপন করেছে। যা তার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ। এভাবে রবিউল ইসলাম ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৯ শ ৯৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ন অর্জন করে দখলে রাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অপরাধ করেছেন।

দুদক সজেকা, যশোরের ই/আর নং-৩১/২০১১ অনুসন্ধানে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য। তার প্রতি সম্পদের নোটিশ জারি করা হলে তিনি ২০১২ সালের ২৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালকের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবের নিকট জারিকৃত সম্পদ বিবরনী ফরম পূরন করে দাখিল করেন। তিনি দুদকে গাড়ি খানা রোডে ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া বিল্ডিংয়ের উপর থাকা স্থাপনার মূল্য দেখিয়েছেন ৭০ লাখ টাকা, পুরাতন কসবা কাজিপাড়ায় ৭ দশমিক ২৫ জমির ক্রয় মূল্য ৪০ হাজার টাকা, ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে জমির উপর তিনতলা বিল্ডিং করা, মোট ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও বিভিন্ন ব্যাংক, ডাকঘর ও অন্যান্য স্থানে বিনিয়োগ হিসেবে ৭৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ১৪ ভরি স্বর্নালংকার।

এদিকে অভিযোগ যাচাইকালে অনুসন্ধানকারি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বাড়ি নির্মান ব্যয় নিরুপনের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলী নিয়োগ করেন। গনপূর্ত অধিদফতরের নিয়োগকৃত প্রকৌশলী ২০১৬ সালের ২৯ আগস্টে ১৯২৫ নং স্বারকে বাড়ি নির্মান ব্যয় দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪ শ’ ৯৫ টাকা। এখানে রবিউল ইসলাম তথ্য গোপন করে দুর্নীতি আশ্রয় নিয়েছেন।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।