ব্রেকিং নিউজ

রণদা প্রসাদ হত্যার রায় বৃহস্পতিবার

news-details
আইন-আদালত

আমাদের প্রতিবেদক

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রণদা প্রসাদ সাহা এবং তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় জানা যাবে বৃহস্পতিবার। বুধবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দিন নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে আসামি মাহবুবুর রহমান। সে সময় মাহবুব ও তার ভাই আব্দুল মান্নান রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুসারে, ১৯৭১ সালে ৭ মে আসামি মাহবুব অন্যদের সহায়তা ও পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকার সিরাজউদ্দৌলা রোডে যায়। সেখানে বাড়ি থেকে রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে যায়।

সেই সঙ্গে রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানকে তুলে নেয়। এরপর তাদের হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমসের আশপাশের এলাকা, নারায়ণগঞ্জের খানপুরের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও তার আশপাশের এলাকা এবং টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজ এলাকায় অপরাধ সংঘটন করেন আসামি মাহবুব।

চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে রণদা প্রসাদ সাহা হত্যাসহ অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল থেকে মাহবুবের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। ওই বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তখন থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

রণদা প্রসাদ সাহা সমাজসেবক ছিলেন। তিনি কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা। তার পৈত্রিক নিবাস ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।