ছবি নির্মাণের সংখ্যা ক্রমশ কমছে

news-details
বিনোদন

আমাদের প্রতিবেদক

গত কয়েক বছর ধরে বাংলা সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-তে একটা সময় প্রতিদিনই শুটিং হত কোন না কোন সিনেমার। দেখা মিলতো তারকা অভিনয়শিল্পীদের।

এফডিসিতে শুটিংয়ের সেই ব্যস্ততা এখন আর আগের মতো নেই। মাঝে-মধ্যে আশার আলো দেখা দিলেও স্থায়ী হচ্ছে না চলচ্চিত্রের সুদিন। কিছু ছবির শুটিং বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে এফডিসির ফ্লোরগুলোতে খুব কম সময়ই কাজ হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফডিসিতে কর্মরত একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, এফডিসিতে গত তিন বছরে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমার শুটিং হয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় এফডিসি অর্থ সংকটে পড়েছে। এফডিসির যন্ত্রপাতি আধুনিক হওয়া সত্ত্বেও অনেক নির্মাতা তা নিয়মিত ব্যবহার করছেন না। অন্যদিকে, প্রতি বছরে কমে যাচ্ছে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা। সিনেমা নির্মাণের কাজ কম হওয়ায় এফডিসির উন্নত যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। যার কারণে সেগুলো দিন দিন অকার্যকর হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু নতুন যন্ত্রপাতি আগে কেনা হয়েছিল। তবে  তার ব্যবহার যথার্থ হয়নি।

এদিকে প্রযোজক ও রাজধানীর সনি সিনেমা হলের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বর্তমানে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। তবে সেই সংখ্যাটা অনেক কম। প্রতি বছরই সংখ্যটা কমছে। তবে বর্তমানে শাকিব খানের এসকে ফিল্মস, শাপলা মিডিয়া, দেশ মাল্টিমিডিয়াসহ বেশ কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবি প্রযোজনার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছে। এসব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে শুটিংও শুরু করেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে এভাবে পুরনো ও নতুন প্রযোজকরা আসলে ভালো মানের সিনেমা দর্শকরা পাবেন। আশা করি, সামনে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন হলে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যাটা আরো বাড়বে। জানা যায়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে নতুন ছবি নির্মাণের সংখ্যা ছিল ৩২।

চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে ছবি মুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। গত বছরের তুলনায় কম ছবি নির্মাণ হচ্ছে এবার। কিন্তু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু ছবির সংখ্যা বাড়লেই হবে না। ছবিগুলো দর্শকদের কতটা হলে টানতে পারলো, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, চলতি বছর ঈদের ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ খুব ভালো ব্যবসা করেছে। অন্য দুটি ছবিও বেশকিছু সিনেমা হলে ভালো সাড়া পেয়েছে। কিন্তু চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত কিছু ছবি মুক্তি পেলেও কোনোটিই ভালো ব্যবসা করেনি। আলোচিত কিছু ছবি মুক্তির পরে দু-এক দিন সিনেমা হলে কিছুটা ভালো চললেও পরে সপ্তাহের শেষের দিকে গিয়ে দর্শক টানতে পারেনি। আমরা সিনেমা হলে ভালো মানের ছবি নিয়মিত চাই। এই প্রত্যাশা পূরণ হলে পুরো বছরে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যাও বাড়বে, প্রযোজকরাও লাভবান হবেন এবং সেই সঙ্গে চলচ্চিত্রের দর্শকরাও ঈদের ছবির মতো নিয়মিত সিনেমা হলে ভিড় করবেন।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।