ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে ‘তেহরান আগুন নিয়ে খেলছে’: ট্রাম্প

news-details
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান আগুন নিয়ে খেলছে।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চার বছর আগে করা পরমাণু চুক্তিতে ইরান নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মাত্রা হ্রাসে মজুদের পরিমাণ যে সীমায় রাখতে রাজি হয়েছিল, তেহরান তা অতিক্রম করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, কোনো কিছু করা লঙ্ঘন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ইরানের এটি করার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, তিনশ কেজির যে সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল ইরান তা অতিক্রম করেছে।

‘আমরা পরিষ্কারভাবেই বলেছিলাম আমরা কী করবো এবং আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। এটাকে আমরা যৌথ সামগ্রিক কর্ম পরিকল্পনার অধীনে আমাদের অধিকার বলেই বিবেচনা করছি।’

জাভেদ জারিফ বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান ৩০০ কেজি পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারত। তবে ওই সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, অপরপক্ষ এ সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তেহরান এটির কোনো কোনো ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারবে। সে অনুযায়ী ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি বিষয়ক সংস্থা আইএইএ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

এর আগে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি জানিয়েছিলেন, এখন থেকে পরমাণু সমঝাতা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা মেনে চলবে না ইরান। ২৭ জুন থেকে ইরান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

শুরু থেকেই চুক্তির প্রতিটি শর্তই মেনে আসছে তেহরান। এর পরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে বেআইনি ও একতরফাভাবে আমেরিকাকে বের করে নেন। সেই সঙ্গে ২০১৫ সালে তুলে নেয়া সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পরিপ্রেক্ষিতে ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি (হেভি ওয়াটার) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

জাতিসংঘের পরমাণু তদারক সংস্থা আইএইএর প্রতিবেদনে যদি সীমা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে পরমাণু চুক্তির কারণে দেশটির ওপর থেকে যেসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বহাল করা হবে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।