শেরপুরে বাঁধ ভেঙে নতুন এলাকা প্লাবিত

news-details
দেশজুড়ে

শেরপুর প্রতিনিধি

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শেরপুরে নিম্নাঞ্চলের আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১.৩৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীতে পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের বেতমারি বেড়িবাঁধ প্রায় ২শ ফুটের মতো ভেঙ্গে গেছে।

এতে বেতমারি, চরখারচর, ঘুঘুরাকান্দিসহ আশপাশের ৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে খুনুয়া-ঘুঘুরাকান্দি সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও কয়েকস্থানে ভাঙনের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে পোড়ার দোকান ও শিমুলতলি ডাইভারশনের উপর দিয়ে প্রায় ৮ ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেইসাথে শেরপুর শহরের কয়েকটি মহল্লার কিছু কিছু অংশও প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪৮ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাতন ভাঙন অংশ দিয়ে বন্যার পানি দ্রুতবেগে প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় শনিবার থেকে কুসুমহাটি বাজার থেকে বলাইয়েরচর হয়ে ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ পর্যন্ত বিকল্প রাস্তায় হালকা যানবাহন চলাচল করলেও বলাইয়েরচরের কিছু অংশে বন্যার পানি রাস্তা ছুঁই ছঁই করছে। কাজেই দ্রুত পানি না কমলে বা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ওই সড়কেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জেলা প্রশাসকের বন্যা বিষয়ক কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলায় পানি অনেকটা নেমে গেলেও শনিবার সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে ১৭.১৪ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। চরপক্ষীমারী, কামারেরচর, বলাইয়েরচর, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ও চরশেরপুর ইউনিয়নের আরও কিছু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়ছে। এতে সদর উপজেলায় বন্যার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে জেলায় বন্যার্তদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পর আরও ৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫০ মেট্রিক টন ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া সদরে আরও নগদ এক লাখ টাকা বিতরণ করা হবে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্রসহ মৃগী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুর পৌর শহরের মোবারকপুরের কইনাপাড়া, দমদমা কালীগঞ্জের উত্তরপাড়া, উত্তর গৌরীপুর, মীরগঞ্জ বারাকপাড়া (নিমতলা), কসবা শিবউত্তর, কাচারীপাড়ার নামাপাড়া, ভাটিপাড়া, পূর্ব শেরী, দিঘারপাড়, তাতালপুর ও শেখহাটির কামারিয়া মহল্লার বেশ কিছু অংশ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। জেলা কারাগার মোড় থেকে থানাঘাট রাস্তার লাশকাটা ঘরসংলগ্ন ব্রিজ দিয়ে মৃগী নদীর পানি প্রবেশ করায় উত্তর গৌরীপুর এলাকায় প্লাবিত ঘরবাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ওই এলাকাসহ নিমজ্জিত পৌর এলাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। শুক্রবার উত্তর গৌরীপুর এলাকায় বন্যার পানিতে কলাগাছের ভেলায় ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মেহেদী হাসান নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।