ব্রেকিং নিউজ

সিরাজগঞ্জে দুধ পানিতে ফেলে প্রতিবাদ

news-details
দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

মিল্ক ভিটার আওতাধীন সিরাজগঞ্জ-পাবনার খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ না করায় প্রায় ৪০ হাজার খামারি বিপাকে পড়েছেন। আজ সোমবার সকালে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণ, আকিজ, ফার্মফ্রেশ তাদের লক্ষাধিক গরু থেকে উৎপাদিত প্রায় ২ লাখ লিটার দুধ বিপণন না করতে পেরে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন।

এমতাবস্থায় তারা খামারের পশু ও নিজেদের পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের প্রধান আয়ের উৎস দুধ উৎপাদন করে বাজারজাত করা হলেও এই অবস্থায় তারা দুধ নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন। শাহজাদপুরের পোতাজিয়া গ্রামের খামারিরা দুধ বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়েই বন্যার পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

খামরিদের দাবি আমরা দুধ উৎপাদনে কোনো অনিয়ম করি না। অথচ কেন আমাদের দুধ নেওয়া হচ্ছে না। সরকারের কাছে দাবি যারা দোষ করে তাদের বিচার করা হোক। আর খামারিরা যারা সৎ উপায় অবলম্বন করি তাদের প্রতি যেন আদালত সদয় হয়।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের খামারি আবদুস সামাদ ফকির বলেন, তার খামারে প্রাায় ১৫০টি গাভী  রয়েছে। দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ লিটারের মতো দুধ পাওয়া যায়। পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের আদালতের নিদেশে বিপাকে পরেছেন তিনি। এত পরিমাণ দুধ নিয়ে কি করবো। এভাবে চলতে থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। সামাদ ফকিরে মতো এ অঞ্চলের বাকি খামারিদেরও।

কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় ১৪টি কোম্পানি এখন তরল দুধ সংগ্রহ করে। সরবরাহ ভালো থাকলে দৈনিক ৭-৮ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে কোম্পানিগুলো। ভরা মৌসুমে তার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। কোম্পানিগুলো যে দুধ সংগ্রহ করে তার মূল কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে। প্রতি লিটার দুধের দাম হিসেবে তারা চাষিদের দেয় ৩৬ থেকে ৪৫ টাকা। মূল্য নির্ভর করে দুধে ননির মাত্রার ওপর। ওই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকটা দুধের ওপর নির্ভরশীল। ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ার পর অনেক তরুণ উদ্যোক্তা খামার করেছেন। গড়ে ৪০ টাকা ধরে ৮ লাখ লিটার দুধের দাম ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া চন্দ্রপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফ বলেন, আমার এলাকায় সবাই গোখামারি সবার ঘরেই দুধের উৎপাদন আছে। হঠাৎ দুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমার এলাকার কোথাও দুধ বিক্রি হচ্ছে না। এখন আমরা খামারিরা এত দুধ নিয়ে কোথায় যাব। বধ্যহয়ে পানিতে ফেলছি।

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া প্রথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ওয়াজ আলীর বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। এখন হঠাৎ কোম্পানিগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করায় হাজার হাজার খামারি আমরা কোথায় যাব। গরুগুলোকেই বা কি খাওয়াবো। এদিকে গরু হতে দুধ না দোয়ালে গরুর দুধ জর হবে।

মিল্ক ভিটা বাঘাবাড়ি প্লান্টের ডিজিএম ইদ্রিস আলী জানান, আদালতের নির্দেশে আমরা দুধ সংগ্রহ ও বিপণন বন্ধ রেখেছি। আমাদের এখানে প্রতিদিন ১ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হলেও খামারিদের কাছ থেকে তা নেওয়া হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর মিল্ক ভিটা সমিতি বিভাগের ব্যবস্থাপক অমিও কুমার মন্ডল বলেন, আমাদের মিল্ক ভিটা শাহজাদপুর অঞ্চলেই মোট সচল দুগ্ধ উৎপাদকারী প্রাথমিক সমবায় সমিতি রয়েছে ৫৫০টি । এতে গোখামারি রয়েছে ২০ হতে ২৫ হাজার। দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী রয়েছে ৭৫ হাজার। শুধুমাত্র মিল্ক ভিটা তাদের অন্তর্ভুক্ত প্রাথমিক সমিতির সদস্যদের কাছে থেকে প্রতিদিন ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে থাকে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।