ব্রেকিং নিউজ

এবার বিনা নোটিশে হাজির হবেন এনবিআর কর্মকর্তারা

news-details
অর্থনীতি

আমাদের প্রতিবেদক

করদাতা সংগ্রহে এবার বিনা নোটিশে হাজির হবেন এনবিআর কর্মকর্তারা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠনে এ অভিযানে ইটিআইএন আছে কি না তা যাচাই করা হবে। না থাকলে তাত্ক্ষণিক তা দেওয়া হবে। শপিং মল, বন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় শহরের আভিজাত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়েও করদাতা সংগ্রহ করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে এসব অভিযান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই করদাতা সংগ্রহে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই আ হ ম মুস্তফা কামাল রাজস্বজালের বিস্তারে এনবিআরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেন। এরপর এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকেও অর্থমন্ত্রী একই নির্দেশ দিয়ে কার্যকর কৌশল প্রণয়নের কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘করদাতা বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ইটিআইএন নিতে এনবিআরের কাছে আসার দিন শেষ হয়েছে। কেউ ইটিআইএন গ্রহণ করতে চাইলে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে গ্রহণ করতে পারবে। বিভিন্ন অভিযানেও ইটিআইএন নেওয়ার সুযোগ আছে।’

এনবিআর সদস্য (জরিপ ও পরির্দশন) মো. মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে করদাতা সংগ্রহে আগে থেকেই এনবিআর কাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নতুন কৌশলে করদাতা সংগ্রহ করা হবে। অনেকে ব্যস্ততার কারণে রাজস্ব দপ্তরে এসে ইটিআইএন নিতে পারেন না। অনেকে বিষয়টি জটিল মনে করেন। এ জন্য এনবিআর থেকে ইটিআইএন প্রদানের পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে ইটিআইএন প্রদান করবেন। আশা করি এতে সুফল আসবে।’

অভিযানের জন্য একটি এলাকা বা একটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার পর এনবিআর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স প্রতিষ্ঠানের কাউকে না জানিয়ে বিনা নোটিশে হাজির হবে। নতুন করদাতা সংগ্রহের অভিযানে নামার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), অনলাইনে বিআইএন এবং ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ও আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাবের তথ্য খতিয়ে দেখে কর অঞ্চল থেকে এলাকা ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট এলাকা বা প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ইটিআইএন আছে কি না যাচাই করা হবে। কারো না থাকলে তাত্ক্ষণিকভাবে টাস্কফোর্স কমিটির সঙ্গে থাকা ল্যাপটপের মাধ্যমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ইটিআইএন সরবরাহ করা হবে। শহরের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা পর্যায়েও এ অভিযানে জোর দেওয়া হবে। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরের আওতাধীন উপজেলাগুলোতে নতুন করদাতা সংগ্রহে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। বড় মাপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় মাঝারি খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও এ অভিযান চালানো হবে। বিভিন্ন বন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মলসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে নতুন করদাতা সংগ্রহের এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সময়ে উপস্থিত অভিভাকদের সঙ্গে কথা বলে ইটিআইএন আছে কি না তা জানতে চাওয়া হতে পারে। একইভাবে বন্দরে উপস্থিত হয়ে ইটিআইএন যাচাই করা হবে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের অভিজাত এলাকায় গিয়ে একটি ভবন নির্বাচন করার পর সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের ইটিআইএন আছে কি না তার খোঁজ নেওয়া হবে। না থাকলে তাত্ক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২.৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইটিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়িয়ে এক কোটি করার হিসাব করা হয়েছে। এতে নতুন কর আরোপ ছাড়াই রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে বলে এনবিআরের করনীতি শাখা থেকে হিসাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রত্যেক কর অঞ্চলের জন্য পৃথক পৃথকভাবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে করদাতা সংগ্রহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করদাতা সংগ্রহের কার্যক্রম এনবিআর চেয়ারম্যান নিজেই নজরদারি করবেন। প্রত্যেক কর অঞ্চল থেকে প্রতি তিন মাসে কী পরিমাণ করদাতা সংগ্রহ করা হবে তার হিসাব এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠাতে হবে। কোনো কর অঞ্চল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে এনবিআর রাজস্ব আদায় করে। চলতিবারে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের তিন খাত আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের মধ্যে চলতিবারে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আয়কর আদায়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।