ব্রেকিং নিউজ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান,  পুলিশের মধ্যস্ততায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর তরুনী 

news-details
দেশজুড়ে

মোঃ সোহাগ হোসেন, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন প্রেমিক। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা শুরু করে প্রেমিক। এক পর্যায়ে গত শনিবার বিকালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয় ওই প্রেমিকা। হয় বিয়ে করবে না হয় আত্মহত্যা করবো বলে হুমকিদেয়  অবস্থানকারী প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে। 

জানা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের সেলিম গাজীর ছেলে উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সালেহিয়া ফাযিল মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির ছাত্র মোঃ মোহেব্বুল্লাহ গাজী একই গ্রামের দরিদ্র হারুন বিশ্বাসের মেয়ে সুবিদখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে গত এক বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক হয় তাদের। একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকে প্রেমিক মোহেব্বুল্লাহ। মোহেব্বুল্লাহয়ের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই মেয়েকে বিয়ে করাতে রাজি না হয়ে নানান তালবহনা করে। প্রেমিকাকে নিজের ঘরে ওঠার খবর শুনে মোহেব্বুল্লাহ গাজী আত্মগোপনে চলে যায়।

মোহেব্বুল্লার বাড়িতে অবস্থানকারী ওই ছাত্রী জানান, মোহেব্বুল্লাহর বাড়ি আমাদের বাড়ির পাশাপাশি। কলেজে যাবার পথে প্রায়ই আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। হঠাৎ একদিন আমার কাছ থেকে জোড় করে ফোন নম্বর নিয়ে যায়। তারপর থেকে আমাকে ফোনে জালাতন করতে থাকে। বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখায়। তারপর মোহেব্বুল্লাহর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে। কিছুদিন পূর্বে আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে পায়ের নুপুর উপহার দেয়। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে আমার সাথে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। কিছু দিন যেতে না যেতেই আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে মোহেবুল্লাহ। এক পর্যায়ে  নিরুপায় হয়ে আমি শনিবার বিকালে মোহেবুল্লাহ বাড়িতে অবস্থান করি। 

পরে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কাদের হোসেন ও মিজাগঞ্জ থানার পুলিশ আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে মোহেবুল্লাহর বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে আসে। পরে বয়স হলে মোহেবুল্লাহর সাথে বিয়ে দিবে বলে আমাকে বাবার হাতে তুলে দেয়।

মোহেবুল্লাহর পরিবারে কাছে জানতে চাইলে এব্যাপারে তার কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।  
ইউপি সদস্য মোঃ কাদের হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। 

মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে ওই তরুনী থানায় এনে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছেলে ও মেয়ে দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। উভয় প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরে বিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।