খুলনায় রেলওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি

news-details
দেশজুড়ে

খুলনা প্রতিনিধি 

খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ওই নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, খুলনা রেলওয়ে থানা হাজতে রেখে ৬/৭ জন পুলিশ তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও মারপিট করে মর্মে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছে। আদালত ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনা তদন্ত ও সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানান, ‘ফরেনসিক বিভাগের গাইনি চিকিৎসকরা ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’

ভিকটিমের বড় বোন অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি রবিবার রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সামনে এসে তাদের দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারা সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। মিথ্যা ফেনসিডিল মামলায় তার বোনকে গ্রেফতার এবং থানায় আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মারপিটের ঘটনায় ওসিসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের কঠিন শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এদিকে খুলনা জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই মহিলাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ আগস্ট আটক করা হয়। সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু আদালতে গিয়ে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। ফেনসিডিলের মামলা থেকে রক্ষা পেতে সে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২ আগস্ট ঘটনার রাতে খুলনা রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান, এস আই গৌতম কুমার পাল, এস আই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান, হারুন, মফিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আলাউদ্দিন, কাজলসহ বেশ কয়েকজন থানায় উপস্থিত ছিলেন।

ভিকটিমের দুলাভাই জানান, ২ আগস্ট শুক্রবার তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে (ভিকটিমের দুলাভাই) ফোন করে ওসি উসমান গনি থানায় ডেনে নিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এত টাকা কোথায় পাবেন বললে ওসি তাকেও থানা হাজতে আটকে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে বলেন, টাকা না দিলে তার শ্যালিকাকে ফেনসিডিলসহ আরও কঠিন মামলায় চালান দেওয়া হবে। পরে রাত বেশি হলে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। এরমধ্যে গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চার জন পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৩ আগস্ট শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, ৪ আগস্ট আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর জামিন শুনানিকালে তার শ্যালিকা জিআরপি থানায় তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।