আজ হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

news-details
আন্তর্জাতিক

হুমায়ূন আহমেদকে বলা হয় বাংলাদেশের টিভি নাটকের ম্যাজিক হিরো। ১৯৮৮ সালে বিটিভির ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’র মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেন। এরপর অয়োময়, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ........

হুমায়ূন আহমেদকে বলা হয় বাংলাদেশের টিভি নাটকের ম্যাজিক হিরো। ১৯৮৮ সালে বিটিভির ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’র মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেন। এরপর অয়োময়, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার এর মতো ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

ধারাবাহিক নাটকের পাশাপাশি একদিন হঠাৎ, খাদক, অন্যভুবন, অচিনবৃক্ষ, খোয়াব নগর, জোছনার ফুল, আজিজ সাহেবের পাপ, আমরা তিনজন, ভূত বিলাস, বুয়া বিলাস, এই বৈশাখে, চৈত্রদিনের গান, নাট্যকার হামিদ সাহেবের একদিন, পক্ষীরাজ, জুতা বাবা, তারা তিনজন-টি মাস্টার, তৃষ্ণা, রূপালী রাত্রি, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, বাদল দিনের প্রথম কদমফুল, ঘটনা সামান্য, চেরাগের দৈত্য, বৃক্ষ মানব, এই বসন্তে’সহ অসংখ্য খণ্ড নাটক তৈরি করেছেন তিনি।

শুধু টেলিভিশন নাটক নয়, সিনেমা নির্মাণেও সাফল্য দেখিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৮১ সালে মুক্তি পায় শহীদুল হক পরিচালিত ‘কলমীলতা’। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছর স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। ‘আগুনের পরশমণি’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে একযুগের সেই বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এনেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন গতি।

১৯৯৪ সালে সরকারি অনুদানে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেছিলেন ‘আগুনের পরশমনি’। মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুরসহ অনেকে। ছবিটি ৮টি শাখায় অর্জন করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এরপর ১৯৯৮ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রেও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ম্যাজিশিয়ান হুমায়ূন আহমেদ প্রায় দুই দশকে নির্মাণ করেছেন ৮টি চলচ্চিত্র। এই ৮টি ছবি হল- আগুনের পরশমণি,  শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল এবং সবশেষে ঘেটুপুত্র কমলা।

একাধারে সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। লিখেছেন- গান, নাটক, গল্প, উপন্যাস। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়ে উঠেছিলেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি।

আজ এই জননন্দিত লেখকের ৭০তম জন্মবার্ষিকী। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনার কুতুবপুরে, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। একপর্যায়ে অধ্যাপনা ছেড়ে পেশা হিসেবে লেখালেখিকে বেছে নেন। পরে চলচ্চিত্র নির্মাণেও যুক্ত হয়েছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কোলন ক্যানসারে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First