বাবাকে বাইরে পাঠিয়ে মসজিদের ভেতরে শিশুকে ধর্ষণ করলেন ইমাম

news-details
ক্রাইম নিউজ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ঝাড়ফুঁক দেওয়ার জন্য বাবাকে মোম ও আগরবাতি আনতে পাঠিয়ে এক শিশুকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় গত ২ আগস্ট ঘটনাটি ঘটলেও ফজলুর রহমান নামের ওই ইমামের অনুসারীদের ভয়ে এতদিন অভিযোগ দিতে পারেননি ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে সহায়তা কামনা করলে ইমাম ফজলুর রহমানসহ তার আরও পাঁচ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী, মোতাহার হোসেন ও শরিফ হোসেন।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটির বাবা একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ করে। মা গার্মেন্টস শ্রমিক। ধর্ষণের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি রাতে ঘুমের মধ্যে প্রায়ই কেঁদে উঠত। নিম্ন আয়ের পরিবারটি শিশুটির এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা করায়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় তারা জানতে পারে চাঁদমারি বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করেন। তারা ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দুই থেকে তিন বার শিশুটিকে ঝাড়ফুঁক করেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।’

আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘এরপর তিনি “বাড়ি বন্ধ” করতে মেয়েটির বাড়িতে যান। এরপরেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় মেয়েটির বাবা ফজলুর রহমানের সঙ্গে গত ১ আগস্ট মাগরিবের নামাজের পর যোগাযোগ করলে তিনি পরদিন ফজরের নামাজের পর মেয়েটিকে নিয়ে মসজিদের আসতে বলেন।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘পরে ২ আগস্ট ফজরের নামাজের পর শিশুটিকে মসজিদে নিয়ে গেলে ইমাম ফজলুর রহমান বাবা-মেয়েকে মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমামের শয়ন কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটির বাবাকে মোম ও আগরবাতি আনতে বাইরে পাঠিয়ে দেয় সে। কিন্তু এত ভোরে কোনো দোকান খোলা না থাকায় মেয়েটির বাবা বাইরে দোকান খোলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে ফজলুর রহমান মেয়ের বাবাকে ফোন করে তার জন্য একটি পানও নিয়ে আসতে বলেন। আর মসজিদের মুয়াজ্জিনকে নিচের কলাপসিবল গেটে তালা লাগাতে বলে। এরপর ফজলুর রহমান শিশুটির হাত বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির গলায় চাকু ধরে এ কথা কাউকে না বলতে শাসিয়ে দেয়। এ কথা কাউকে জানালে জবাই করে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় মেয়েটিকে।’

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এদিকে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর মেয়েটির বাবা মোম ও আগরবাতি নিয়ে মসজিদে ফিরে গেলে ফজলুর রহমান তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়। মেয়েটি বাড়ি ফিরে সব ঘটনা তার বাবা মাকে খুলে বলে।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনা জানার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার বাবা ঘটনার দিনেই মসজিদে এসে মসজিদ কমিটির কাছে এর বিচার দাবি করলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশেপাশে থাকা ধর্ষকের কিছু ভক্ত মিলে শিশু ও তার পরিবারটিকে চরমভাবে হেনস্তা করে। ধর্ষক ফজলুর রহমান তার অনুসারীদের দিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে। এরপর শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হলে শিশুটিকে নিয়ে শিশুটির পরিবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গোপনে ভর্তি করে। ধর্ষক ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে হাসপাতালেও কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের ধর্ষকের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবা মাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। পরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা হাসপাতালের এক নার্সের কাছ থেকে একটি বোরকা চেয়ে নিয়ে র‌্যাব-১১ এর অফিসে এসে অভিযোগ দেয়।’

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।