ব্রেকিং নিউজ

সড়কে শৃঙ্খলা : সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাইনি

news-details
জাতীয়

আমাদের প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমি গত পৌনে পাঁচ বছরে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বার বার বসেছি। বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে আমরা সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছি। কিন্তু এর সঙ্গে বাস মালিক-শ্রমিক এবং পুলিশের বাইরেও সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ অনেকগুলো সংস্থা জড়িত। সেসব সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাইনি।

শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত 'ঢাকা মহানগরীর বাস ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কগুলোতে ভৌত অবকাঠামের উন্নয়ন হলে অনেক পরিবর্তন চলে আসবে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি এলাকা খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ ছিল। রোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটি বাঁক সোজা করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ওই সড়কে ৯৫ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে গেছে।

আমাদের মহানগরীর ওপর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাতায়াত করে। কয়েকটা বাইপাস হওয়ার পর কিছুটা কমেছে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাস ডিপো নগরীর বাইরে থাকার কথা।

সড়কে বাস বে নেই উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাস বে না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েই যাত্রী উঠানামা করছে। এক্ষেত্রে হাজারো জরিমানা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ১৬৭ টা বাসস্ট্যান্ড চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত দিয়ে যেন মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারে সেজন্য মেটাল পিলার স্থাপন করেছে। অথচ এগুলো ডিএমপির কাজ না হওয়া সত্ত্বেও নিজ অর্থায়নে ডিএমপি করেছে।

পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে এখনো হাত উঁচিয়ে গাড়ি চলাচলে সিগনাল দেওয়া হয়। আমরা এখনো এই সিগনাল ব্যবস্থাটাকে ডিজিটাল করতে পারলাম না। বেশিরভাগ মানুষ অপরাধ করলে পুলিশের দ্বারা আইন প্রয়োগ অসম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, চালকরা মোবাইলে কথা বলার সময় গাড়ি চালাবেন। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপার হবেন। শতকরা ৯৮ শতাংশ মানুষই যদি আইন না মানে তাহলে পুলিশ কেন, ফেরেশতা নেমে এলেও আইন প্রয়োগ সম্ভব নয়। তাই আমাদের সবার মধ্যেই আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্ন অপরাধে গাড়ি চালকদের আমরা প্রচুর পরিমাণে জরিমানা করছি। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ যেন রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে এটা শুধু ব্যবসা নয়, সেবা। যত্রতত্র গাড়ি না থামানো, গাড়ির দরজা বন্ধ রাখা, বিনা কারণে হর্ন না বাজানো, শুধু আন্তরিক হলেই এসব মেনে চলা যায়। আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু মূল উদ্যোগটা মালিক-শ্রমিকদেরই নিতে হবে।

 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।