ব্রেকিং নিউজ

ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম

news-details
অর্থনীতি

আমাদের প্রতিবেদক

ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। কুরবানির ঈদের পর সাধারণত মসলা জাতীয় এই পণ্যটির দাম কমে যায়। কিন্তু এবার উল্টো মূল্য বেড়ে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে বেড়েছে ১০ টাকা আর খুচরায় ২০-২৫ টাকা। দেশের আড়তগুলোতে মজুদ কমে যাওয়ায় ও ভারতে বন্যার প্রভাবে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

দেশে গড়ে প্রতি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি- এই তিন মাসে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এ ছাড়া রমজান মাস ও কুরবানির সময় পেঁয়াজের দেড় থেকে ২ লাখ টন বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এই চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে ওঠে সিন্ডিকেট চক্র। এবারের রমজানে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো কারসাজি না হলেও কুরবানি ঈদের আগে বাজার অস্থির করার কারসাজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। আর চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়ে থাকে ১৯-২০ লাখ টন। তবে বছরে ১৯ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার তথ্যটি বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, দেশের পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়।

গত কুরবানির ঈদের প্রায় এক মাস আগে থেকেই বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সরকারি হিসাবে পেঁয়াজের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও জোগান পর্যাপ্ত হলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পেঁয়াজের জোগান কম। সরকারি হিসাব সঠিক নয়। এদিকে চাহিদা কমার পরও দাম বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে আমদানিকারক সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় মাথায় রেখে ভোগ্যপণ্যের সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজারের খুচরা, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেশিতে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এদিকে বাজারে এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। ক্রেতাদের দাবি, সরকারের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে কয়েক দিন পরপর পেঁয়াজের দামে উত্থান-পতন হয়। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের যত বিপদ। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, বেশি দামে কিনি, বেশি দামে বিক্রি করি। পাইকারি বাজারের সঙ্গে আমাদের দামের ব্যবধান একটু বেশিই থাকে। কারণ পেঁয়াজ কেনার পর আমাদের ঘাটতি যায়। আনা-নেয়ার খরচসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে, ফলে দাম একটু বেশিই পড়ে।

রাজধানীর কাওরানবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, এক পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি করছেন ১৯০ থেকে ২২৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা, যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

এদিকে খুচরা বাজারে দেখা গেছে, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৭০ টাকায়, যা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। সে হিসাবে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। আর আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা।

দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনির হোসেন বলেন, বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে আমদানিকারকদের এলসি করতে হচ্ছে চড়া দামে। আর দেশের পেঁয়াজের মজুদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, এ বছর পেঁয়াজ ওঠানোর সময় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকের মজুদের প্রায় অর্ধেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। আশা করছি, মিয়ানমার ও তুরস্কের পেঁয়াজ আসা শুরু করলে দাম স্বাভাবিক হবে।

বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আনিকা ইয়াসমিন বলেন, সরকার বাজারের দিকে নজর কম দিচ্ছে। এ জন্যই ব্যবসায়ীরা তাদের খেয়ালখুশি মতো দাম বাড়িয়ে দেন। এ বছর বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছিল। এটা সরকারের মাথায় রাখা উচিত ছিল। আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলে আমদানির ব্যবস্থা নিতে পারত।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম জানান, ভারতের বন্যার কারণে ১২ টাকা কেজির পেঁয়াজ ২৫ টাকা হয়ে গেছে। সেই প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ে। তবে যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে তাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। ঈদের আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তখন আমাদের তদারকিতে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এখনো বাজারে মনিটরিং চলছে। আশা করছি, পেঁয়াজের দাম নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।