ব্রেকিং নিউজ

তদন্তে আটকে আছে ফারুকী হত্যা মামলা

news-details
ক্রাইম নিউজ

আমাদের প্রতিবেদক

আলোচিত মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পার হলেও এখনো তদন্তেই আটকে আছে এ মামলার কার্যক্রম। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে শনাক্ত করতে না পারায় তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দিতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ফারুকী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি আদালতে জানানোর পরবর্তী তারিখ হচ্ছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। গত ২৮ জুলাই ঢাকা মহানগর আদালতের বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেএমবি সদস্য সাগর ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে একজনের নাম বলেছেন। কিন্তু পুলিশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থাই নব্য জেএমবির ওই শীর্ষ পরিকল্পনাকারীকে এখনো পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি। গোপনীয়তার স্বার্থে মূল পরিকল্পনাকারীর নামটি প্রকাশ না করে তাকে হণ্যে হয়ে খুঁজছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, এহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিত শায়খ মোযাফফর বিন মুহসিনসহ আনসারুল্লাহর ৩ জন, নব্য জেএমবির ৬ জন ও হরকাতুল জিহাদের ৩ সদস্যসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মোযাফফর বিন মুহসিন জামিনে ছাড়া পান। জেএমবির ৬ জনসহ ১২ জন এখনো কারাগারে রয়েছে।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পার হলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন ফারুকীর ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী। তিনি বলেন, পুলিশের যারা তদন্ত করছেন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পার হলেও এখনো মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে চার্জশিট দিলে এবং আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তো আমরা কিছুটা চেষ্টা করতে পারতাম। তারপরও আশায় আছি, আজ হোক আর কাল হোক, আমরা বাবা হত্যার বিচার পাব।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় নব্য জেএমবির জঙ্গিদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর ‘কাফেলা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব ছিলেন। কট্টরপন্থিদের অভিযোগ ছিল, ইসলামের ‘মনগড়া ব্যাখ্যা’ দিতেন তিনি। নিজ বাসায় নিহত হওয়ার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করে ইসলামের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি থাকার কারণে প্রতিপক্ষ বা উগ্রবাদী কোনো সংগঠনের জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে। তবে এর মদতদাতা বা মূল হোতাকে আজও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর মাওলানা ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করে শেরে বাংলানগর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ ও পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে মামলাটি ডিবি থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।

ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদ তালুকদার বলেন, তদন্তে প্রথম চার বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতিই ছিল না। গ্রেপ্তার হওয়া কোনো আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছিল না। গত বছরের মাঝামাঝি সাগর নামের এক জেএমবি সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার বক্তব্য থেকে আমরা মূল পরিকল্পনাকারীর নাম জানতে পারি। কিন্তু তাকে এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও তার হদিস করতে পারেনি। যে কারণে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিতে বিলম্ব হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, যেনতেনভাবে অভিযোগপত্র দিলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার কারণে সময় নিচ্ছি। কবে নাগাদ অভিযোগপত্র দেয়া যাবে সেটাও নির্ভর করবে মূল আসামিকে শনাক্তের ওপর। কিছু নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ, যাকে পেলে ঘটনার পুরো ছকটা পাওয়া যাবে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।