পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীর শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সেই মাদ্রাসা ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ

news-details
দেশজুড়ে

           ।। ফেনী প্রতিনিধি ।। 

পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীর শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজীর ‘সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা’ ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট পিকে এনামুল করিম সভাপতিত্বে মাদ্রাসার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতারের দিন থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বৈঠক শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেস্ট্রেট পিকে এনামুল করিম জানান, মাদ্রাসার তহবিল ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহানকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও মাদ্রাসায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো ও জেষ্ঠ্য শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরক্ত ডিআইজি (অপারেশ ও ক্রাইম) আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদির্শন করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। আটক দুইজনকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকালে পৌরশহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এক ছাত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে নুসরাত জাহান নামের ওই ছাত্রীর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। নুসরাত পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের মাওলানা মুচা মিয়ার মেয়ে।

অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, শনিবার সকালে আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যায় নুসরাত। এ সময় কতিপয় বখাটে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রের চারতলায় ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।

তিনি বলেন, তার চিৎকার শুনে উপস্থিত লোকজন ও পরিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে ফেনী সদর হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুসরাত সমকালকে জানান, তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে বোরকা পরা এক ছাত্রী তাকে বলেন- তার এক বান্ধবীকে (নিশাত) ছাদের ওপর মারপিট করা হচ্ছে। এ কথা শুনে তিনি ছাদে গেলে তার ওপর কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে বোরকা পরা কয়েকজন ছাত্রী পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তার শরীরে আগুন লাগানো হয়েছে।


 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।