ব্রেকিং নিউজ
  1. রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে নারী নির্যাতন মামলার আসামি সাফাত আহমেদের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ
  2. ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ১২শ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর
  3. বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা; কোরবানি ছাড়া খরচ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা; হজে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন : হাব
  4. মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য জামায়াত ক্ষমা চাইলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বন্ধ হবে না : ওবায়দুল কাদের
  5. ২১ মে থেকে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার করবে : অ্যাটকো
  6. রাজধানী ও যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
  7. আইএসে যাওয়া শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে ব্রিটেন
  8. এসএসসির ফল পরিবর্তনের ‘নিশ্চয়তা’য় ৪ প্রতারক আটক
  9. শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ সদস্য
  10. মাল‌য়ে‌শিয়া‌য় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদে‌শিসহ নিহত ৬
  11. চলে গেলেন সঙ্গীতশিল্পী প্রতীক চৌধুরী

দোকানের সামনে চিপস ঝুলানোর অভিযোগে এনে মামলার ভয়, ২ হাজার টাকা নিলো পুলিশ

news-details
জাতীয়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর কাফরুলে ময়না জেনারেল স্টোর নামের এক দোকানের সামনে চিপস ঝুলানোর অভিযোগে এনে মামলার ভয় দেখিয়ে দোকানির কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কাফরুল থানা পুলিশ বিরুদ্ধে । দোকানটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জায়গায় এবং এর নিয়ন্ত্রক সেনাবাহিনী। 

গত (২৪ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রায়হান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল ও কনস্টেবল শহিদুল ওই দোকানিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন।

ময়না জেনারেল স্টোরের দোকানি বলেন, ‘সেদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে ১০/১২ জন পুলিশ এসে দোকানের সামনে থাকা জিনিসগুলো ভেতরে সরিয়ে নিতে বলে। কিন্তু দোকানের একটা সীমানা দেয়া আছে। সেই সীমানার বাইরে দোকানের কোনও মালামাল নেই। বিকেলে পুলিশ আবারও এসে অনেক গালাগালি করে। নাম-ঠিকানা নিয়ে মামলার ভয় দেখায়। পাশে থাকা এক পুলিশ সদস্য তখন বলে- ‘স্যার আছে। স্যারের সঙ্গে কথা বলে ম্যানেজ করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে’। পরে অনেক চেষ্টার পর দুই হাজার টাকা নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

স্থানীয় আরও একাধিক দোকানিও কাফরুল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন। বিভিন্ন সময় মামলার ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছ থেকেও পুলিশ টাকা দাবি করে বলেও  জানান আশপাশের দোকানিরা।  

এ বিষয়ে কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রায়হান  বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) ভাই-ব্রাদার মানুষ। দুই-চার-পাঁচ হাজার টাকার যদি কোনও ঘটনা ঘটে আপনি আমার সঙ্গে সরাসরি এসে চা খেলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। একজনের দোকানের সামনে পুলিশ যেতেই পারে। এর মানে এই না যে আমি টাকা নিয়েছি। যেহেতু আমার টিমের প্রশ্ন তাই ব্যর্থতা বা এর দায়ভারও আমার ঘাড়েই নিচ্ছি। দোকানদারকে পাঠিয়ে দিয়েন। আমার কাছ থেকে এসে টাকা নিয়ে যাবে।’ 

কাফরুল থানার আরেক উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল বলেন, ‘আমি টাকা নিইনি। থানায় এসে দোকানদারকে প্রমাণ করতে বলুন।’ 

এ ব্যাপারে কাফরুল থানার পরিদর্শক তদন্ত আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী নূর খান । তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় বাংলাদেশ পুলিশের এটা নিত্যদিনের চিত্র। যেকোনোভাবে মানুষকে নাজেহাল করে, ভয় দেখিয়ে, বিপদ্গ্রস্ত করে পুলিশের কতিপয় সদস্য এ ধরনের চাঁদাবাজি চালায়। বিশেষ করে থানা পুলিশ। অনেকেই তার এলাকাকে ভাগ করে নিয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেও এটা শুরু করতে হবে পুলিশের মধ্যে থেকেই। সাধারণ মানুষ ক্রমান্বয়ে পুলিশের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ কি হতদরিদ্র মানুষদের বেশি জিম্মি করে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সুযোগ পেলে প্রায় সবাইকেই এমন ঘটনার সম্মুখিন করায়। সবাইকেই তারা টার্গেট করে। কিন্তু গরিব-হতদরিদ্র মানুষ যারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে টিকে থাকার চেষ্টা করে তাদের ওপরে জুলুমটা খুব সহজে করা যায় এবং সেই সুযোগটাই নেয় পুলিশ। আর যারা অর্থনৈতিক দিক থেকে স্ট্রং (শক্তিশালী) তাদের কাছ থেকে পুলিশ সুযোগ সৃষ্টি করে একই কাজ করে। কিন্তু সেটা একজন কনেস্টেবলের পক্ষে সম্ভব না। এ কাজ সাধারণত ঊর্ধ্বতন পুলিশেরাই করে থাকে।

 

 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First