ব্রেকিং নিউজ

ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের অনেকেই অধরা

news-details
ক্রাইম নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন অনেকে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ তার অনেক সাঙ্গোপাঙ্গকে গ্রেফতার করা যায়নি। ক্যাসিনোসহ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর অনেকে এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি সম্রাটের অবস্থান নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও যে কোনো সময় তিনি ধরা পড়তে পারেন এমন আভাস দিচ্ছেন গোয়েন্দারা।

যুবলীগের একাধিক নেতার ভাষ্য, সম্রাট এখন তার অসুস্থ মায়ের কাছে রয়েছেন। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। তবে সম্রাটের সব ফোন নম্বর কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সরকারদলীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা আভাস দিয়েছেন, হয়তো প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে অভিযানে আরও গতি ফিরবে। ক্যাসিনোসহ দুর্নীতির সঙ্গে কোন কোন সেক্টরের কারা জড়িত তার তালিকা তৈরিও করা হচ্ছে। তবে কাউকে যাতে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক তারা। একটি সূত্র বলছে, সবুজসংকেত পেলে যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন সম্রাট। তবে বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। অভিযান ঘিরে এরই মধ্যে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনো ছাড়াও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হবে। এরপর তাদের সম্পদ জব্দ করা হলে পরবর্তীকালে কেউ এ ধরনের কাজে জড়ানোর সাহস পাবে না। মাদকবিরোধী অভিযানের পর বেশ কয়েকজন মাদক সম্রাটের সম্পদ জব্দ করা হয়েছিল।

বছরের পর বছর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় ক্যাসিনো বা জুয়া চললেও এতদিনে বড় ধরনের কোনো অভিযানে নামেনি কেউ। এতে ক্যাসিনোয় জড়িত আলোচিত ব্যক্তিদের নামও ছিল অপ্রকাশ্য। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতারের পর ক্যাসিনোয় জড়িত আলোচিতদের নাম উঠে আসে। ক্যাসিনো বা জুয়া থেকে কারা, কীভাবে, কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে সে বিষয়টিও উঠে আসে। খালেদ গ্রেফতারের পর ক্যাসিনো-সংক্রান্ত ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ আলোচিতদের অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সম্রাটসহ অনেকেই তাদের নজরদারিতে রয়েছেন। তার বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়।

অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ যারা পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দুর্নীতি করছেন, টেন্ডারবাজি করছেন, ক্যাসিনোয় জড়িত রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা আওয়ামী লীগের হোক কিংবা অন্য দলের হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ক্যাসিনোর ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। একইদিন মতিঝিলের আরামবাগে তার নিয়ন্ত্রিত ক্যাসিনোসহ চারটি ক্লাব সিলগালা করা হয়। এর পরই রাজধানীতে দেড় শতাধিক ক্যাসিনো ও জুয়া খেলা হয় এমন ক্লাবের তালিকা তৈরি করেন গোয়েন্দারা।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকা খালেদ জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনোয় জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের অসাধু কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিও ক্যাসিনো থেকে টাকা পেতেন বলে ডিবিকে তথ্য দিয়েছেন খালেদ। ক্যাসিনোর ঘটনায় বিদেশিদের পালাতে সহায়তা করায় ইতিমধ্যে দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। খালেদকে গ্রেফতারের পর পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীম. কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে। অবশ্য তারা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী অনেক নেতার মধ্যেই গ্রেফতার আতঙ্ক ভর করে। খালেদ ও জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পরও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের অবস্থান ছিল কাকরাইলে তার ব্যক্তিগত অফিসে। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্যাসিনো সম্রাটদের মধ্যে এখনও যাদের আইনের আওতায় আনা যায়নি তাদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা এনামুল হক আরমান, সরোয়ার হোসেন মনা, সোহরাব হোসেন স্বপন, জসীম উদ্দিন, মনির, রানা, খায়রুল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাশিদুল হক রশিদ ভূঁইয়া, তার দুই ছোট ভাই গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক ওরফে এনু ভূঁইয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে ওয়ারী থানার অন্তর্গত ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাতেনুল হক বাঁধন ভূইয়া, রশিদের ভাতিজা একই এলাকার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তামিম ভূঁইয়া, এনুর ক্যাসিনো ক্লাবের ম্যানেজার গেণ্ডারিয়া থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি পাভেল, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক. ওয়ার্ড যুবলীগের কার্যকরী সদস্য হারুন অর রশিদ। এ ছাড়া আরামবাগ ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণকারী স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাইদসহ কয়েকজন বিদেশে রয়েছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে তারা দেশে ফিরছেন না বলে সূত্র জানায়।

- সূত্র ঃ সমকাল 
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।