ব্রেকিং নিউজ

খালেদের নিয়ন্ত্রণে ছিল ৭ প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার

news-details
ক্রাইম নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এসব প্রতিষ্ঠানের সব ঠিকাদারি কাজ করতেন তিনি ও তার সহযোগীরা। পাশাপাশি রাজধানীর চারটি কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি। মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীর কাছে রয়েছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্র।

খালেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার জন্য র‌্যাবের আবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানি শেষে অস্ত্র ও মাদকের মামলায় তাকে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। এদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু'দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম সমকালকে বলেন, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার ও ফকিরাপুলে তার অবৈধ ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব। এখন র‌্যাব এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্তেরও দায়িত্ব পেয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। প্রথম দফায় তাকে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে র‌্যাব এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়।

আদালত সূত্র জানায়, গুলশান থানার অস্ত্র ও মাদক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খালেদকে ১০ দিন করে মোট ২০ দিন রিমান্ডে চেয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তাকে কাঠগড়ায় তেলা হয়। অবশ্য তিনি আদালতে কোনো কথা বলেননি। শুনানি শেষে বিচারক দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা দেন। পরে খালেদকে 'রুটিন চেকআপে'র জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে।

র‌্যাবের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ ছিল খালেদের হাতে। তিনি ঈদুল আজহায় শাজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া, কমলাপুর ও সবুজবাগ এলাকার কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। ঢাকার মতিঝিলের ইয়ংমেনস ও আরামবাগ ক্লাবসহ ফকিরাপুলের অনেক ক্লাবে ক্যাসিনোর আসর বসিয়ে জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিলেন এই 'ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী'। এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। এ ছাড়া তিনি খিলগাঁও-শাজাহানপুরে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন আদালতকে বলেন, খালেদ মাহমুদ ভূঁঁইয়া বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য খালেদকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় খালেদের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, তার মক্কেল যুবলীগের একজন নেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি করেন। ক্যাসিনো সারা বিশ্বেই চলছে। তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

খালেদ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন তার আইনজীবীরা। তারা বলেন, খালেদের কাছে বৈধ অস্ত্র পাওয়া গেছে। শুধু লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। তা ছাড়া এ ব্যাপারে তাকে ডিবি এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

লোকমানও রিমান্ডে :মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গতকাল আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় কাঠগড়ায় ছিলেন লোকমান।

বুধবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। এ সময় সেখান থেকে কয়েক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে তেজগাঁও থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ক্যাসিনো চালানোর জন্য ভাড়া দিয়ে সুনাম নষ্ট করেছেন লোকমান। ক্যাসিনো পরিচালনায় তার ও অন্যদের সংশ্নিষ্টতার বিষয়ে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া তার সহযোগীদের কাছে বিপুল পরিমাণ মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আছে বলে জানা গেছে। তাদের নাম-ঠিকানা জেনে গ্রেফতারে অভিযান চালানোর জন্যও তাকে রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

আদালতে লোকমানকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবী মকবুল হোসেন বলেন, মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ক্যাসিনোর কোনো সম্পর্ক নেই। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মদের বোতল পাওয়া গেছে তার বাসায়। অথচ তার বিরুদ্ধে মোহামেডান ক্লাবে অবৈধভাবে মদের ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  সূত্রে ঃ সমকাল 
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।