ব্রেকিং নিউজ

২৭ হাজার টাকার বালিশ কেনার প্রস্তাবটি ভুল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

news-details
স্বাস্থ্য

  আমাদের  প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য বালিশসহ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সেটি ভুল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের শহীদ ডা. মিলন হলে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ২৭ হাজার, রেক্সিনের দাম ৮৪ হাজার টাকাসহ ১২টি আইটেমে গরমিল পেয়েছে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি প্রস্তাব। তবে এধরনের প্রস্তাবও এক ধরনের দুর্নীতি। এই প্রকল্প প্রস্তাব খতিয়ে দেখে যারা এর পেছনে আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি এখনও অনুমোদন হয়নি। এসব ভুল যাচাই-বাছাই করে এটি প্রি-একনেকে অনুমোদন হবে। এরও পরে প্রকল্প পাসের জন্য একনেকে উঠবে। এখন প্রি-একনেকেই এটা অনুমোদন হয়নি। যেখানে ভুলভ্রান্তি হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই ঠিক করে দেব।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাবনায় একটি বালিশের দাম ২৭ হাজার এবং একটি কভারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। এর আগে দুর্নীতির এমন চিত্র উঠে এসেছিল রূপপুরে, সেখানে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৬ হাজার টাকা।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দেশের দ্বিতীয় এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) এমন আরও অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ডিপিপিতে দেখা যায়, মাত্র ২০ টাকার হ্যান্ড গ্লাভসের দাম ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা, আর ১৫ টাকার টেস্ট টিউবের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। যাচাই করা হয়নি প্রকল্পের সম্ভাব্যতাও।

ডিপিপি’র তথ্য থেকে জানা গেছে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এজন্য ২২ তলাবিশিষ্ট এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ২০ তলাবিশিষ্ট দুই বেজমেন্টের প্রশাসনিক ভবন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম বন্দর বাইপাস সড়কের পাশে ২৮ দশমিক ৪২ একর জায়গা জুড়ে হবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার আটশ কোটি টাকা। অনুমোদন পেলে তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ১২টি আইটেমের যে দাম ধরা হয়েছে তা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি; অনেকটা পর্বতসম বলে ডিপিপির কার্যপত্র থেকে জানা যায়।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য মোতাবেক, এই ১২টি জিনিসের মধ্যে প্রস্তাবনায় বালিশ কেনার খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিটির ২৭ হাজার ৭শ ২০ টাকা, যার (সরবরাহকারীর লাভ, ভ্যাট, ট্যাক্সসহ) বাজারমূল্য ৭৫০ থেকে ২ হাজার টাকা আর বালিশের কাভারের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য ৫শ থেকে ১৫শ টাকা। এমন আরো অনেক অসঙ্গতি রয়েছে পণ্যগুলোর ক্রয় প্রস্তাবে। এর মধ্যে অপারেশনের সময় ডাক্তারদের হাতে পরার স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লাভসের দাম ধরা হয়েছে প্রতিটির ৩৫ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য মাত্র ২০-৫০ টাকা। আর ১৫-৫০ টাকার টেস্ট টিউবের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা।

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।