ব্রেকিং নিউজ
  1. যারা কম আসন পেয়ে মন খারাপ করে সংসদে আসছেন না, তারা রাজনৈতিকভাবে ভুল করছেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; তাদেরকে সংসদে যোগ দেওয়ার আহ্বান
  2. রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে নারী নির্যাতন মামলার আসামি সাফাত আহমেদের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ
  3. ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ১২শ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর
  4. রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৪৪
  5. ইলিয়াসপত্নীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি
  6. কক্সবাজারের টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ, সাড়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা
  7. বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা; কোরবানি ছাড়া খরচ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা; হজে যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন : হাব
  8. মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য জামায়াত ক্ষমা চাইলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বন্ধ হবে না : ওবায়দুল কাদের

রংপুরে আইনজীবী রথীশ হত্যায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

news-details
আইন-আদালত

।। রংপুর প্রতিনিধি ।। 

রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলার বিশেষ পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা হত্যা মামলায় স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের (দীপা) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) রংপুর জেলার সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ আদেশ দেন। 

এর আগে মামলার প্রধান আসামি দীপাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জেলা দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতেই ছিলেন।

আদালতের পিপি আবদুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত এই রায় কার্যকর চাই। 

আলোচিত রথীশ চন্দ্র হত্যা মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে গত বছরের ২১ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। 

গত বছরের ২৯ মার্চ রাতে পরকীয়া প্রেমের জেরে আইনজীবী রথীশ ভৌমিককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্ত্রী দীপা ও প্রেমিক কামরুল। এরপর তার লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরে পুঁতে রাখা হয়। 

৩ এপ্রিল রাতে দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে। তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে জানান। সেই সূত্র ধরে ওই দিন রাতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে রথীশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রথীশের ভাই সুশান্ত ভৌমিক মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন তিনি। 

এরপর পুলিশ বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা, প্রেমিক কামরুল ইসলাম, বাবুসোনার সহকারী মিলন মোহন্ত, ছাত্র মোল্লাপাড়া এলাকার সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দীপা ও কামরুল। সেই সঙ্গে মিলন মোহন্তও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

১৩ এপ্রিল রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিলন মোহন্ত। হত্যাকাণ্ডের দুই শিক্ষার্থী রোকন ও সবুজের সম্পৃক্ততা খুঁজে না পাওয়ায় এবং মিলন মোহন্ত মারা যাওয়ায় তাদেরকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী বসুনিয়া মো. আরিফুল ইসলাম।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত দুই আসামির মধ্যে একমাত্র জীবিত আছেন দীপা। তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম গত বছরের ১০ নভেম্বর ভোরে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 

রথীশ চন্দ্র রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রংপুর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক বাবু সোনা নামে পরিচিত এই আইনজীবী হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি। এ ছাড়া তিনি জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলারও সাক্ষী ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীপা ও কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমীন মুক্তার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন রংপুর কোতোয়ালি থানার এসআই আল-আমিন। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন বিচারক। গত ২১ অক্টোবর চার্জশিট আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন বিচারক। 


 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

If you want to comment please Login. If you are not registered then please Register First