ব্রেকিং নিউজ

শহীদ কমিশনারের হাত থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর  সহায়তা চান আসমা আক্তার ও তার পরিবার

news-details
ক্রাইম নিউজ

আমাদের প্রতিবেদক

রাজধানীর পুরান ঢাকার একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি শহীদ কমিশনারের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি আসমা আক্তার ও তার পরিবার। 
    
সোমবার সকাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান। 

লিখিত বক্তব্যে আসমা আক্তার বলেন, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় সতীশ সরকার লেনে ফল কেনার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তার স্বামী আবুল হোসেন। এ সময় শহীদ কমিশনারের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য সাইদুর রহমান শহীদ (৬০), ফারুক (৫০), রমজান (৫০), আরমান (৪০), রনিসহ (৪২) অজ্ঞাত ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয় ও এলোপাতারি মারধর করতে থাকে। এ সংবাদ পেয়ে তিনি তার বড় দুই মেয়েকে নিয়ে আবুল হোসেনকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তার স্বামীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে এ ঘটনায় তিনি গে-ারিয়া থানায় শহীদ কমিশনারকে আসামী করে একটি মামলা করা হলেও রহস্যজনক কারণে শহীদ কমিশনারকে বাদ দিয়ে পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। গেন্ডারিয়া থানার পুলিশ শহীদ কমিশনারের কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা প্রতিমাসে উৎকোচ নেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আছে তা পুলিশ, আমলে নেয় না । একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামী আবুল হোসেনকে হয়রানী করছে । সর্বশেষ গত সপ্তাহে আমার আমার স্বামী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে শ্যমপুর থানায় শহীদ কমিশনারেরর মেয়ে জিডি করেছে। 
আসমা আক্তার জানান, ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান ওরফে শহীদ। এলাকায় তিনি শহীদ চেয়ারম্যান বা শহীদ কমিশনার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট হাবিব ম-লসহ রয়েছে দুই ডজনেরও বেশি হত্যা মামলা। এমনকি বাবার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী চিকিৎসক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আগ্নেয়াস্ত্র, গে-ারিয়ার ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি পুকুর ও রেলওয়ের জমি দখল এবং রাস্তা দখল করে বাজার বসানো ছাড়াও বাড়ি-জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। আছে জুয়ার বোর্ড ও ক্যাসিনো চালনার অভিযোগও।  গে-ারিয়া, সূত্রাপুর, ফরিদাবাদসহ আশপাশের এলাকার আতঙ্কের আর এক নাম শহীদ কমিশনার। শহীদের সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ায় প্রাথমিকের গ-িও পেরোতে পারেননি। একসময় মিলব্যারাকে শুরু করেন শ্রমিকের কাজ। সেখানে তিনি ছিলেন কুলি দলের সর্দার। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজিও বিক্রি করতেন। পরে একসময় যুবদলে যোগ দেন তিনি। এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর ক্যাডার বাহিনী গঠন করে শুরু করেন সন্ত্রাসী কর্মকা-। ওই সময়ে সিলেকশনে শহীদকে ওয়ার্ড কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই কুলি সর্দার শহীদ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। টানা ২৫ বছর তার বিরুদ্ধে কেউ কমিশনার নির্বাচন করে জয়ের স্বপ্নও দেখতে পারেননি। আবার বর্তমান সরকার ক্ষামতায় আসার সাথে সাথে তিনি আওয়ালীগের সাথে হাত মিলান।  বর্তমানে ঢাকায় কমপক্ষে দেড় ডজন বাড়িসহ বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক শহীদ। দেশে-বিদেশে রয়েছে বিশাল ব্যবসা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছর শহীদ কমিশনার বিপুল পরিমানে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে । 
শহীদ কমিশনারের বাবা আজগর আলী রাজাকার ছিলেন। শহীদ কমিশনার নিরীহ কিশোর-যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত করে। এ ছাড়াও সে ৮১নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদ ফকিরের জায়গা জোর করে দখল করে নেয়। এর প্রতিবাদ করায় পরদিনই তার বাড়িতে ডাকাতি করে শহীদ কমিশনারের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এসবের প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা হয়। এ অবস্থা থেকে নিস্কৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আসমা আক্তার ও তার পরিবার।
 

You can share this post on
Facebook

0 মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন ।